[email protected] সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ২০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬ ১৬:০৬ পিএম

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এরই মধ্যে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপু‌রে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে পাওয়া তথ‌্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলায় বীজতলা, পাট ও শাকসবজিসহ ২০৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে ব‌লে কু‌ড়িগ্রাম কৃ‌ষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জা‌নি‌য়ে‌ছে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়। সময়মতো সংস্কার না করায় রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এর পর থেকেই নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকতে  শুরু করে।

ইতোমধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রাম ছাড়াও নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, মিয়াপাড়া ও মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচেও পানি ঢুকতে দেখা গেছে। এতে ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। দুধকুমার নদের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি নিচু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিও ব্যাগ ফেলে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে।

 

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার পরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি মেরামতের জন্য রওনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক  পর্যবেক্ষণ করছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, উজানের ঢলে প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে দুই লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ভাঙন রোধে জেলার প্রত্যেক উপজেলার জন্য এক হাজার করে জিও ব্যাগ রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর


বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ২০ গ্রাম প্লাবিত


প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬ ১৬:০৬ পিএম

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এরই মধ্যে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপু‌রে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে পাওয়া তথ‌্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলায় বীজতলা, পাট ও শাকসবজিসহ ২০৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে ব‌লে কু‌ড়িগ্রাম কৃ‌ষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জা‌নি‌য়ে‌ছে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়। সময়মতো সংস্কার না করায় রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এর পর থেকেই নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকতে  শুরু করে।

ইতোমধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রাম ছাড়াও নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, মিয়াপাড়া ও মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচেও পানি ঢুকতে দেখা গেছে। এতে ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। দুধকুমার নদের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি নিচু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিও ব্যাগ ফেলে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে।

 

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার পরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি মেরামতের জন্য রওনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক  পর্যবেক্ষণ করছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, উজানের ঢলে প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে দুই লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ভাঙন রোধে জেলার প্রত্যেক উপজেলার জন্য এক হাজার করে জিও ব্যাগ রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর