ইউপি চেয়ারম্যানকে সরাতে সদস্যদের কাছ থেকে জোর করে অনাস্থাপত্রে স্বাক্ষর, উদ্যোক্তাকে মারধর
পটুয়াখালীর বাউফলের দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যানকে চেয়ারম্যানপদ থেকে সরানোর জন্য ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে জোর করে অনাস্থাপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া এবং পরিষদের উদ্যোক্তাকে দফায় দফায় মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ওই বিএনপি নেতার নাম মো. আলী আজম। তিনি দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
মঙ্গলবার দুপুরে দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মামুনকে প্রথম দফায় এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে দ্বিতীয় দফায় মারধরের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গতকাল সোমবার সকালে কয়েকজন মেম্বারের কাছ থেকে বিএনপি নেতা আলী আজমের নেতৃত্বে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ওই স্বাক্ষরিত কাগজ দিয়ে ওই ইউপির চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তুলে দুজন ইউপি সদস্য পৃথকভাবে ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দাশপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে দাসপাড়া ইউপির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী।
ওই ইউপির উদ্যোক্তা সাইফুল হাসান হলেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের শ্যালক। এ কারণে সাইফুল হাসানকে মারধর করে ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়ে ওই কক্ষে ও মূল ফটকে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে।
সাইফুল হাসান অভিযোগ করেছেন,প্রতিদিনের মত তিনি তাঁর কক্ষে বসে সেবা প্রদান করে আসছিলেন। দুপুর একটার দিকে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ঢুকে তাঁকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তিনি ইউএনও স্যারের অনুমতি ছাড়া বের হবেন না বলায় তাঁকে (সাইফুল হাসান) আলী আজম মারধর শুরু করলে সবাই এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে আহত করে।
দাসপাড়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, গতকাল সোমবার সকাল ১০ টার দিকে বিএনপি নেতা আলী আজমের নেতৃত্বে ৪০-৪৫ জনের একটি দল তাঁর কালাইয়া বাজারের বাসায় ঢুকে তাঁদের লিখিত কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। কি লেখা জানতে চাইলে আলী আজম বলেন,চেয়ারম্যানকে অনাস্থা দিতে হবে।স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়া হওয়ায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে নেন আলী আজম ও তাঁর লোকজন। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানান।
দাসপাড়া ইউপির ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য কুলসুম বেগম অভিযোগ করেছেন,গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিএনপি নেতা আলী আজমের নেতৃত্বে ৪০-৪৫ জনের একটি দল তাঁর (কুলসুম) ঘরে ঢুকে তাঁদের (আলী আজম) লিখিত কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। অপারগতা প্রকাশ করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তাছাড়া তিনি রোববার চোখের অপারেশন করিয়ে বিশ্রামে ছিলেন। এ কারণে ভয়ে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়েছেন।
বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী বলেন,‘যা কিছু ঘটেছে ইউপি সদস্যরা ঘটিয়েছেন। কোনো ঘটনার সঙ্গেই তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম বলা হচ্ছে।’
ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেন,‘উদ্যোক্তাকে মারধরের খবর পেয়েছি। এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,দাসপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েকজন ইউপি সদস্যদের অনাস্থার একটি আবেদ পেয়েছেন।পাশাপাশি দুই ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
