চাঁদা না দেওয়ায় পল্লী চিকিৎসককে হাতুড়িপেটার অভিযোগ, ভেঙেছে হাত
যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলট গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় এক পল্লী চিকিৎসককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত কাজী বশির উদ্দিনকে (৪০) উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের দাবি, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে।
আহত বশির উদ্দিন পাঁচভুলট গ্রামের কাজী শামজুজ্জোহার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন।
পরিবার ও আহত ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় পাঁচভুলট বাজারে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন বশির উদ্দিন। এ সময় আনোয়ারুল, রাজুবদ্দী, সুজন ও রিপনসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁর দোকানে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে স্বজনেরা তাঁকে দোকানের পাশের বাড়িতে নিয়ে গেলে হামলাকারীরা বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে শার্শা থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বশির উদ্দিনকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. তন্ময় জানান, বশির উদ্দিনের ডান হাত ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাম পায়ে গুরুতর আঘাত এবং ডান পায়ে কাটা জখমে সেলাই দিতে হয়েছে। তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন।
বশির উদ্দিনের ভাই ও স্থানীয় সাংবাদিক কাজী শাহজান সবুজ বলেন, তাঁর ভাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোগা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ কারণে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হামলাকারীরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত শার্শা থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
