[email protected] শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইয়াবার ফাঁদে ডেকে শ্বাসরোধে হত্যা, বেনাপোলে আরও এক আসামি আটক

মোঃ রমজান আলী প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬ ২২:০৫ পিএম

ছবিঃ নতুন সময়

যশোরের বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি গামছাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আটক সোহেল রানা বেনাপোলের পুটখালী রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে। রোববার রাতে শার্শার গোগা বাগানপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে এ মামলায় একই এলাকার তরিকুল ইসলাম ও সবুজ হোসেনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সোহেল রানার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

নিহত ইউনুস আলী (৪৭) বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, আটকের পর সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে আনোয়ার হোসেন ইউনুস আলীকে নিয়ে তার ঘরে যান। সেখানে আনোয়ার তাকে ১০টি ইয়াবা কিনে আনতে বলেন। পরে তারা ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে ইউনুস আলী অচেতন হয়ে পড়েন। তখন আনোয়ার জানান, ইয়াবার সঙ্গে ঘুমের ওষুধও খাওয়ানো হয়েছিল। পরে শ্বাসরোধ করে ইউনুসকে হত্যা করা হয়।

যশোর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, পারিবারিক জটিলতা ও দাম্পত্য বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, নিহত ইউনুস আলীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পুনরায় সংসার নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পিবিআই জানায়, গত ২২ এপ্রিল কৌশলে তরিকুল ইসলাম ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আনোয়ারসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধর ও নির্যাতন করেন। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সবুজ হোসেনের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল বড়আঁচড়া-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৭ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ আটক করা হলো সোহেল রানাকে।

তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

মোঃ রমজান আলী
বেনাপোল সারসাজা যশোর
তারিখ: ২৫ মে ২০২৬

সম্পর্কিত খবর


ইয়াবার ফাঁদে ডেকে শ্বাসরোধে হত্যা, বেনাপোলে আরও এক আসামি আটক

মোঃ রমজান আলী

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬ ২২:০৫ পিএম

ছবিঃ নতুন সময়

যশোরের বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি গামছাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আটক সোহেল রানা বেনাপোলের পুটখালী রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে। রোববার রাতে শার্শার গোগা বাগানপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে এ মামলায় একই এলাকার তরিকুল ইসলাম ও সবুজ হোসেনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সোহেল রানার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

নিহত ইউনুস আলী (৪৭) বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, আটকের পর সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে আনোয়ার হোসেন ইউনুস আলীকে নিয়ে তার ঘরে যান। সেখানে আনোয়ার তাকে ১০টি ইয়াবা কিনে আনতে বলেন। পরে তারা ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে ইউনুস আলী অচেতন হয়ে পড়েন। তখন আনোয়ার জানান, ইয়াবার সঙ্গে ঘুমের ওষুধও খাওয়ানো হয়েছিল। পরে শ্বাসরোধ করে ইউনুসকে হত্যা করা হয়।

যশোর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, পারিবারিক জটিলতা ও দাম্পত্য বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, নিহত ইউনুস আলীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পুনরায় সংসার নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পিবিআই জানায়, গত ২২ এপ্রিল কৌশলে তরিকুল ইসলাম ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আনোয়ারসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধর ও নির্যাতন করেন। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সবুজ হোসেনের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল বড়আঁচড়া-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৭ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ আটক করা হলো সোহেল রানাকে।

তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

মোঃ রমজান আলী
বেনাপোল সারসাজা যশোর
তারিখ: ২৫ মে ২০২৬

সম্পর্কিত খবর