[email protected] শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ, তিন পুলিশ সদস্য ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬ ১০:০৬ এএম

রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। তার অভিযোগ, থানায় একটি পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে গেলে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

জানা গেছে, নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে থানায় আনা হলে তাদের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা থানায় যান। সেখানে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছিলেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হন এবং তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। পরে আহত রাকিবকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরাও পুলিশের মারধরের অভিযোগ সমর্থন করেছেন।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। তারা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রয়োজন হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান। তার দাবি, উদ্ধার হওয়া যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছিল। আহত নেতার শরীরে আঘাতের বিষয়ে তিনি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।

ঘটনার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সম্পর্কিত খবর


থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ, তিন পুলিশ সদস্য ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬ ১০:০৬ এএম

রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। তার অভিযোগ, থানায় একটি পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে গেলে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

জানা গেছে, নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে থানায় আনা হলে তাদের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা থানায় যান। সেখানে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছিলেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হন এবং তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। পরে আহত রাকিবকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরাও পুলিশের মারধরের অভিযোগ সমর্থন করেছেন।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। তারা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রয়োজন হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান। তার দাবি, উদ্ধার হওয়া যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছিল। আহত নেতার শরীরে আঘাতের বিষয়ে তিনি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।

ঘটনার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সম্পর্কিত খবর