ঢাকা সোমবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ই আশ্বিন ১৪২৬


মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং প্যারেন্ট হাউজ


২৭ মার্চ ২০১৯ ২৩:০৮

আপডেট:
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৩:৫৭

প্যারেন্ট হাউজ

প্যারেন্ট হাউজ নামের ব্যতিক্রমী এতিমখানাটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হলো। দেশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দিবসের শুরুতে জাতীয় সংগীত এর সুরে সুরে একটি সজ্জিত ডিসপ্লের আয়োজন করে এই প্রতিষ্ঠান। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতি সৌধে এতিমেরা স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়। তিন অক্টোবর ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই এতিমখানাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে। এতিমদের মাঝে বিভিন্ন দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে এসব দিবস পালন করে আসছে এই প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠান প্রধান মোঃ মশিউর রহমান (জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা) এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যানারে আধাঘন্টা ব্যাপী মৌন একটি র‍্যালী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে শুরু হয়ে রংপুর-ডালিয়া মহাসড়ক প্রদক্ষিন করে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে শেষ হয়। অত্র অঞ্চলের প্রায় অর্ধশতাধিক এতিম এই র‍্যালীতে অংশ নেন। এতিমদের সুরক্ষায় কাজ করা এই প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সফলতা ও বিচক্ষণতা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। " স্বাধীনতার তুমি " শিরোনামে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয় যাতে প্রতিষ্ঠাতা নিজে বিচারক এর দায়িত্ব পালন করেন। বিজয়ীদের পুরস্কৃত স্বরুপ বই উপহার দেওয়া হয়। তাছাড়া সংগীত বিষয়ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন প্রতিষ্ঠানে কালচারাল একাডেমি প্রধান " সুবল বয়াতি"। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ছোট্ট একটি নাটকের আয়োজন করা হয়। আঞ্চলি খেলাধূলার ( গোল্লাছুট, ঘোড়দৌড়, দাড়িয়াবান্ধা, লাটিম) আয়োজন করা হয়। দুপুরে সবার মাঝে উন্নত মানের খাবারে ব্যবস্থা করা হয়। এতিমদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে মাস ব্যাপী রাজমিস্ত্রী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মঙ্গল কামনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন: স্বাধীনতা মানে অধিকার -বঙ্গবন্ধু। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ এবং অজস্র মা-বোনের সম্ভ্রম হারিয়ে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মাধ্যমে দেশের এই স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা অর্জনে মহান মুক্তিযুদ্ধের এতিমদের অবদান রয়েছে এই অবদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে স্বাধীনতা স্বপক্ষের জনতার একটি বড় অনুভূতি। মহান স্বাধীনতার স্থপতির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন ও মানবতাবাদী নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা একজন এতিম হিসেবে বিষয়টি সুনজরে নিবেন এই কামনা এতিম সম্প্রদায়ের। এতিম সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সরকারের শ্রদ্ধাশীল হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।