ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ই ফাল্গুন ১৪৩২


'বহুমাত্রিক বাংলাদেশের' প্রত্যয়ে বইমেলা শুরু বৃহস্পতিবার


২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৮

সংগৃহীত

'বহুমাত্রিক বাংলাদেশের' প্রত্যয়ে বইমেলা শুরু বৃহস্পতিবার

'বহুমাত্রিক বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। এদিন দুপুর ২টায় মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার সবশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়।

 

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সেলিম রেজা। বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক সরকার আমিন।

 

এবার মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।

 

আর ছুটির দিন বইমেলা বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

 

৫৪৯ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ 

 

এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৪৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। মোট ইউনিট ১ হাজার ১৮টি।

 

মেলা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় কমেছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।

 

মেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া, শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।

 

সাংস্কৃতিক আয়োজন

 

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত 'শিশুপ্রহর' থাকবে। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।

 

রোজার মাস উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আসা মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।

 

বইমেলায় খাবারের স্টলগুলো এবারও থাকছে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে।

 

বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রয় করবে।

 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে।

 

বইমেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

 

নিরাপত্তার জন্য মেলায় ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

 

মেলায় নানা পুরস্কার

 

ওমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে 'চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার' এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার' দেওয়া হবে।

 

এছাড়া, ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক বইয়ের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে 'রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার' এবং এ বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে 'কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার' দেওয়া হবে।

 

এবারের বইমেলায় প্রবর্তন হচ্ছে 'সরদার জয়েনউদ্‌দীন স্মৃতি পুরস্কার' শিরোনামে একটি নতুন পুরষ্কার।

 

মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারী (যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসেবে ২০২৪/ ২০২৫/ ২০২৬ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করছে) তাদের মধ্য থেকে 'গুণগতমান বিচার'-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে 'সরদার জয়েনউদ্‌দীন স্মৃতি পুরস্কার' (১ম, ২য়, ৩য়) দেওয়া হবে।

 

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসেবে থাকছে 'বর্তমান বাংলা লিমিটেড'।