ঢাকা শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬


মোহনপুরে আধুনিক পদ্বতিতে পানচাষে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক


২৩ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:০৭

আপডেট:
৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৪:৪৮

ছবি-নতুনসময়

সারা দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লেগেছে ডিজিটালের ছৌয়া। আর সেই আধুনিকতার স্পর্শ থেকে বাদ পড়েনি রাজশাহীর সু-স্বাদু পানবরজ। যুগের সহিত তাল মিলিয়ে এখানকার চানচাষিরা তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি পানবরজে প্রয়োগ করে এগিয়ে সামনের দিকে। এককালে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের প্রধান অর্থকারী ফসল ধানের আবাদ থাকলেও। কালের পরিক্রমায় এখন মোহনপুরে পানচাষ হয়ে গেছে কৃষকের প্রধান অর্থকারী ফসল। এখানকার উৎপাদিত সু-স্বাদু পান সারা দেশসহ বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে।

সরজমিনে উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নে মোহনপুর গ্রামের মৃত কছিমদ্দিনের ছেলে সোহরাব আলীর পানবরজে গিয়ে দেখা যায় আধনিক প্রযুক্তিতে শেডনেট পদ্ধতিতে পান চাষ আরম্ভ করে এলাকার পানজাষিদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন উপজেলা বিভিন্ন এলাকা হতে পানচাষি সোহরাব আলীর প্রযুক্তি দেখার জন্য ভীড় জমাচ্ছে।

পানচাষি সোহরাব আলী জানান, আমাদের এলাকায় যুগযুগ আগে থেকে পানবরজে বাঁশের তৈরী খুটি, খড় ও সুতলি ব্যবহৃত হত। কিন্তু এতে প্রতি বছর অনেক টাকা খরচ করে পরিবর্তন করা লাগত। বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে বাঁশের খুটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে সিমেন্ট দ্বারা তৈরী খুটি এবং খড়ের পরিবর্তে ব্যবহার করা নীল নেট জাল। এতে পান চাষে বাৎসরিক আয়ের প্রায় চারগুন পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে পানচাষিরা সবাই যদি এ প্রযুক্তি তাদের পানবরজে প্রয়োগ করে, তবে কৃষক প্রতিবছর পানবরজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরন ও শ্রমিক মজুরি থেকে অনেক টাকা খরচ রক্ষা পাবেন এবং লাভবান হবে।

মহব্বতপুর গ্রামের নছিমুদ্দিনের ছেলে পানচাষি দেলোয়ার হোসেন জানান, স্থাপনার জীবনকাল হিসাব করে বার্ষিক যে অপচয় হয় নেটশেড ব্যবহার করলে প্রতিবছর কৃষক মোটা অংকের অর্থ হতে রক্ষা পাবেন। কিন্তু প্রথাগত বর্তমান পদ্ধতিতে চাষ করলে ওই পরিমাণ নীট লাভ হবেনা। তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগ যদি সোহরাব আলী মত এই অধুনিক পদ্ধতিটি নিয়ে উপজেলা কয়েকটি জায়গায় প্রর্দশনী করে তার ফলাফল অনুসারে পানচাষীরা আগ্রহী হবে এবং উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ রাখবে।

মহব্বতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পানবরজ মালিক আব্দুল আলিম বলেন, সিমেন্টের খুঁটি, নেটজাল দিয়ে শেড তৈরী হলে যা ঝড় বা অন্য প্রকৃতিক দুর্যোগে সহজে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারবে না। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে প্রতি বিঘায় শ্রমিক খরচসহ বিভিন্ন দিকে কৃষক অনেক লাভজনক হবেন।

মোহনপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন জানান, মোহনপুর উপজেলার বর্তমান প্রধান অর্থকারী পান। চাষিদের পান বরজে বাৎসরিক মোটা অংকের দিয়ে পান বরজ সংস্কার করতে হয়। কিন্তু সিমেন্টরে খুটি, নেটজাল দ্বারা শেড তৈরী করলে প্রতি বছর অনেক টাকা খরচ হতে কৃষক রক্ষা হবে। এবং চারিদিকে সার্বক্ষণিক নেটজাল থাকার কারণে পোকার আক্রমণ বিশেষ করে পাতা মাছির আক্রমণ নিয়ন্ত্রিত হবে। কাঠামোর ভিতরে বীজতলা সহজেই শোধন করা যায় বলে গোড়াপচা ও পাতার দাগ রোগ কম হবে। এর মধ্য দিয়ে কিটনাশকের ব্যবহার অনেকটা কমে যায়। আর সেরা অনুশীলন হিসেবে নিম খৈল ও নিম তৈল এবং বিশেষ প্রয়োজনে ঘেটু পাতার নির্যাস ও স্কিনোসাড জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করলে তা অর্গানিক পর্যায়ে পড়ে বলে সে পান রপ্তানির উপযোগী । অতএব পানবরজে সিমেন্ট খুটি ও নেট জাল দিয়ে শেড তৈরীর পরামর্শ দিচ্ছি এতে কৃষকরা অতিরিক্ত মুনাফা পাবেন।