ঢাকা বুধবার, ২৩শে অক্টোবর ২০১৯, ৮ই কার্তিক ১৪২৬


কুড়িগ্রামে ২২ কোটি টাকার লটকন উৎপাদন


১১ জুলাই ২০১৯ ১০:৫০

আপডেট:
২৩ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:১০

ছবি সংগৃহিত

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে এ বছর ২২ কোটি টাকার লটকন উৎপাদন হয়েছে। এ দু’টি এলাকায় ভরা মৌসুমে লটকনের মোকাম থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫শ মণ লটকন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। গত বছরের চেয়ে দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় লটকন চাষী ও পাইকাররা এবার বেশ লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় লটকন ব্যবসায়ী আলম, মনির, জাহাঙ্গীর ও রফিকুল, জানান, তারা গত ১০-১২ বছর ধরে লটকনের ব্যবসা করছেন। সুস্বাদু এ ফলটির চাহিদা ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশি। বর্তমানে কাঁঠালবাড়ি ও ছিনাই ইউনিয়নে প্রচুর পরিমান লটকন চাষ হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন এখান থেকে নৈশ কোচের ছাদে করে প্রায় ২০০টি লটকনের খাঁচা ঢাকা, সাভার, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, গাজিপুর, বগুড়াসহ বিভিন্ন আড়তে চলে যাচ্ছে। প্রতিটি খাঁচায় গড়ে ১০০ কেজি পর্যন্ত লটকন ভরা হয়। গড়ে এক হাজার ৫০০ টাকা মণ হিসেবে প্রতিদিন সাড়ে ৭ লাখ লাখ টাকার লটকন চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। গত ২০ দিন ধরে এই কারবার চলছে। চলবে আরো কমপক্ষে ১০ দিন। অর্থাৎ প্রায় এক মাস ধরে লটকনের এ কারবার চলছে।

সেই হিসেবে এ বছর ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার লটকন উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে আগাম বাগান কিনে নেন। অনেকে বাগানে ঘুরে লটকন কেনেন। টাঙ্গাইল থেকে আসা ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, তারা বাগানে আগাম লটকন কিনেছেন। শুরুতে ২ হাজার টাকার উপকে লটকনের মণ ছিলো। এখন দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে প্রতিমণ লটকন। মাদারীপুর থেকে আসা পাইকার গোলাম হোসেন জানান, বৃহত্তর রংপুরের মধ্যে কুড়িগ্রামে লটকনের চাষ বেশী। স্বাদ ও বর্ণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। তাই তারা মৌসুমের সময় এখন থেকে প্রতিদিন লটকন কিনে পাঠান।

সরেজমিন দেখা গেছে, সুপারি গাছের ফাঁকে নামমাত্র পরিচর্যা আর খরচ করেই লাখ লাখ টাকার লটকন বিক্রি করছেন অনেক লটকন চাষী। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শিবরাম গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫) সফল লটকন চাষী হিসেবে সবার নজর কেড়েছেন। তিনি জানান, প্রায় ৩৩ বছর আগে তার বাবা ৫ একর জমিতে সুপারিসহ অন্যান্য ফলমুলের বাগান করেন। বাগানের চারপাশে সারিবদ্ধভাবে কিছু লটকন গাছ লাগান।

গত ১৯ বছর ধরে এসব গাছ ফল দিতে শুরু করে। বর্তমানে ২০০টি লটকন গাছ থেকে লটকন উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বছর লটকন উৎপাদন হবে ৪ লাখ টাকারও বেশী। এ ছাড়াও শিবরাম গ্রামের আনোয়ার হোসেন ১ লাখ ২০ হাজার, রাজারহাটের ছিনাই এলাকার দেলোয়ার হোসেন ১ লাখ টাকায় লটকন বাগান বিক্রি করেছেন। পূর্ব দেবোত্তর গ্রামের মহির খোকা ৮০ মণ, মহেন্দ্রনারায়ন গ্রামের কৌশল চন্দ্র ১২০ মণ লটকন উৎপাদনের আশা করছেন। পাইকাররা গ্রামে গ্রামে ঘুরে লটকন সংগ্রহ ছাড়াও হাটবারে কাঁঠালবাড়ি হাটে বিক্রি হচ্ছে লটকন। বেশীরভাগ সময় পাইকাররা কম দামে চাষীদের কাছ থেকে আগাম লটকন কিনে নেন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ও রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মাটি লটকন চাষের উপযোগী প্রমাণিত হবার পর অনেকেই ঝুঁকে পড়েছে লটকন চাষের দিকে। ফলে প্রতিবছর বাড়ছে উৎপাদন।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, এ বছর ৮৭ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭০ মে. টন। লটকন চাষ করে অনেকে লাভবান হওয়ায় এবং বিপণনে কোন সমস্যা না হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করার উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।