বেনাপোলে মানবপাচারের শিকারদের জন্য ‘হাফওয়ে হোম’ উদ্বোধন
মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে যশোরের বেনাপোলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আশ্রয়কেন্দ্র (হাফওয়ে হোম) উদ্বোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৭ই জুলাই মঙ্গলবার বেনাপোলের সানরুফ হোটেলের সম্মেলনকক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোর এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর কারিগরি সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির কর্মসূচি পরিচালক প্রদীপ দত্ত। পরে উপ-পরিচালক এস এম আজহারুল ইসলাম নবপ্রতিষ্ঠিত হাফওয়ে হোমের কার্যক্রম এবং ভুক্তভোগীদের জন্য প্রদেয় বিভিন্ন সেবার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসনিম বিনতা করিম প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য দেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়, মানসিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি পরামর্শ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন এই আশ্রয়কেন্দ্র সেই লক্ষ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
আয়োজকেরা জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে ইউএনওডিসির তিন বছর মেয়াদি আঞ্চলিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা জোরদার এবং পাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহান-ই-গুলশান ববি, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান, শার্শা থানার ওসি শামিমুল হক, বেনাপোল প্রেসক্লাবের সভাপতি মহসিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব, বন্দর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক এবং বেনাপোল কোম্পানি সদর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মহসীন চৌধূরীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
