দশম শ্রেণির ছাত্র হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
প্রেমঘটিত কারণে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশ হত্যা মামলায় ময়মনসিংহে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. শামছউদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বিচারক এনামুল হক ও নাজমুল হককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। আসামি এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিনকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করার সুবাদে মো. আকরাম হোসেনের ছেলে সৈকত হাসান আকাশের সঙ্গে একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে; কিন্তু মেয়েটির বাবা জিয়াউল হক কোনোভাবেই প্রেমের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। ফলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটি মোবাইলে আকাশকে দেখা করতে তার বাড়িতে আসতে বলে।
আকাশ সরল বিশ্বাসে বন্ধু রাশিদুল ইসলামকে নিয়ে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়িতে যায়। এরপর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। দুই দিন পর এলাকাবাসী মেয়েটির বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ের অদূরে টয়লেটের সামনে আবর্জনা ফেলার গর্তের মধ্যে মাটি মিশ্রিত রক্ত দেখতে পায়। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উত্তোলন করেন। পরে লাশটি আকাশের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার।
ঘটনার পরদিন ২২ মে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন, এনামুল হক, নাজমুল হক, নেজামুল হক, রুমান, হযরত আলী, আনিছ, আব্দুল লতিফ, অজুফা, রুজিনা, নার্গিস, রাহাতুল জান্নাত ও জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন।
এরপর সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ, বিচার-বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে মো. আবু হানিফ খান এবং আসামিদের পক্ষে মো. রফিকুল ইসলাম খান মামলা পরিচালনা করেন।
