বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১২ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। ভবিষ্যতে চলাচলের সময় আরো বাড়ানো হলে একযোগে ১৪ সেট ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমটিসিএলের।
দৈনিক ১৮ ঘণ্টা মেট্রো চালানোর দাবি যাত্রীদের
মেট্রো রেলের নিয়মিত যাত্রীরা বলছেন, রাজধানীর মানুষের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেট্রো রেল সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চালু রাখা উচিত।
মিরপুরের পল্লবীর বাসিন্দা মেরিনা আক্তার বলেন, পরিবার নিয়ে প্রায়ই নরসিংদী যেতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৭টার ট্রেন ধরতে হয়। কিন্তু এত সকালে মেট্রো রেল চালু না থাকায় সিএনজি বা অন্য যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। কমলাপুর স্টেশন চালু হওয়ার পাশাপাশি সকাল ৬টা থেকে মেট্রো রেল চললে অনেক যাত্রী উপকৃত হবেন।
মিরপুর থেকে নিয়মিত কারওয়ান বাজারে অফিস করেন একুশ তফাদার। তিনি বলেন, মেট্রো রেল চালুর সময় ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনো পূর্ণ সময় চালু হয়নি। কর্মদিবসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রীর চাহিদা থাকে। তাই দ্রুত সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মেট্রো রেল চালু করা উচিত। একই সঙ্গে শুক্রবারও সকাল থেকে সেবা চালুর দাবি জানান তিনি।
আগামী মার্চে চালু হবে কমলাপুর স্টেশন
২০২২ সালে চালু হওয়া এমআরটি লাইন-৬-এর তৃতীয় ধাপের আওতায় মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, প্রকল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে কমলাপুর স্টেশন চালুর প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রায়াল রান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তরা থেকে মতিঝিল অংশে প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী চলাচলের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কমলাপুর স্টেশন চালু হলে দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশনের সঙ্গে মেট্রো রেলের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এতে আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের যাত্রীদের বড় একটি অংশ মেট্রো রেলে যুক্ত হবেন। পাশাপাশি গোপীবাগ, কমলাপুর, মান্ডা ও আশপাশের এলাকার নতুন যাত্রী যুক্ত হওয়ায় দৈনিক যাত্রী অন্তত ২০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নগর বিশেষজ্ঞ আদিল মুহাম্মদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, কমলাপুর স্টেশন চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে মেট্রো রেল সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চালানো সম্ভব হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েও যেতে পারে।
এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্প পরিচালক আব্দুল ওহাব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ, সিগন্যাল ও মেকানিক্যালসহ বিভিন্ন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আমরা আগামী বছরের মার্চে কমলাপুর স্টেশন চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এর আগে ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রায়াল রান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’