[email protected] সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
৮ আষাঢ় ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছাড়ার আহ্বান

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬ ১৯:০৬ পিএম

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ।

সূত্র জানায়, রবিবার (২১ জুন) রাত থেকে চলা ভারি বৃষ্টি আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে বাসিন্দারা।

 

এদিকে আজ সোমবার সকালে সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় বৈরী আবহাওয়ায় শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়ার এক বাসিন্দার একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। মোহাম্মদ জসিম নামের ওই বাসিন্দার ট্রলারে থাকা জেলেরা সাঁতরে তীরে ফিরতে সক্ষম হলেও মাছ, জাল ও ট্রলার মিলে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে মানুষ।টানা বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের শঙ্কা বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

 

তবে অনেক বাসিন্দা জানান, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ই অবস্থান করছেন।

টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূর আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরে যেতে বলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।

 ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকা ডুবে গেছে। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। খাল দখল ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণেও পানি জমছে।’

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘ট্রলারডুবির ঘটনায় জেলেরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তবে ভারী বৃষ্টিতে উপকূলের কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ জানান, ভারি বৃষ্টিতে নির্মীয়মান একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর


টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছাড়ার আহ্বান


প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬ ১৯:০৬ পিএম

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ।

সূত্র জানায়, রবিবার (২১ জুন) রাত থেকে চলা ভারি বৃষ্টি আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে বাসিন্দারা।

 

এদিকে আজ সোমবার সকালে সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় বৈরী আবহাওয়ায় শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়ার এক বাসিন্দার একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। মোহাম্মদ জসিম নামের ওই বাসিন্দার ট্রলারে থাকা জেলেরা সাঁতরে তীরে ফিরতে সক্ষম হলেও মাছ, জাল ও ট্রলার মিলে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে মানুষ।টানা বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের শঙ্কা বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

 

তবে অনেক বাসিন্দা জানান, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ই অবস্থান করছেন।

টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূর আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরে যেতে বলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।

 ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকা ডুবে গেছে। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। খাল দখল ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণেও পানি জমছে।’

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘ট্রলারডুবির ঘটনায় জেলেরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তবে ভারী বৃষ্টিতে উপকূলের কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ জানান, ভারি বৃষ্টিতে নির্মীয়মান একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর