অবিলম্বে ইরানে হামলা বন্ধ না হলে জামায়াত বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অবিলম্বে ইরানে হামলা বন্ধ না করলে জামায়াতে ইসলামী বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ইরানের আন্দোলন ও ক্ষতি নিয়ে জামাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক এক বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ইরানে হামলা ও আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে এটিএম আজহার বলেন, কয়েক বছর আগেই আপনি অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। দেশে-বিদেশের মানুষেরা আপনাদের পণ্য বর্জন করেছিল। আবার আপনাদের পণ্য বর্জন করলে ব্যবসা গুটিয়ে যাবে, চলতে পারবেন না। আমাদের জনগণকে বাধ্য করবেন না। অবিলম্বে ইরানের ওপর আক্রমণ বন্ধ করে দিন তা হলে জনগণই তার সমুচিত জবাব দেবে।
যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘকে ওআইসিকে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ কয়েকটি দেশের তাবেদার শক্তি হিসেবে আজকে ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা শান্তিকামী দেশগুলোর পক্ষে আসে না। এই জাতিসংঘ যদি এই ভূমিকা পালন করে জনগণ একদিন বলবে জাতিসংঘের কোনো প্রয়োজন নেই।
এটিএম আজহার আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো নিয়ে ওআইসি গঠিত। অথচ তারা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। আপনারা ওআইসি মুসলিম বিশ্বের মোড়ল হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন। তা না হলে জনগণ আপনাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা যদি দীর্ঘদিন চলে সেখানের মানুষেরা নয়, বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জিনিসপত্র ও তেলের দাম বেড়ে যাবে। এতে সাধারণ জনগণের জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের শাহেনশাহের বিরুদ্ধে শত শত বছর লড়াই করেছিল দেশটির জালিম সম্প্রদায়। তাদের লড়াইয়ের ফসল ১৯৭৯ সালের ইরানের সফল ইসলামী বিপ্লব। এ শক্তিকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিশ্বের মোড়লরা অনেক চেষ্টা করেছে। জনগণের সামনে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাই জনগণ এ অপ্রতিহত শক্তি আপনারা হিসাব করবেন। শুধু গণতন্ত্রের কথা বললে চলবে না, গণতন্ত্রকে মানতে হবে আপনার দেশেই শুধু নয়, অন্য দেশেও মানার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য দেশেও যাতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে একটি দু'টি দেশে গণতন্ত্র থাকলে সে দেশটি টিকে থাকতে পারবে না।
