ঢাকা সোমবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ই আশ্বিন ১৪২৬


গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ চিৎকার করে উঠে মিন্নি


১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:৫৬

আপডেট:
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৬:০২

ছবি সংগৃহিত

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি নামটি বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের একটি আলোচিত নাম। কিছুদিন আগেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান এই সাক্ষী ও আসামি। তিনি এখন বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার বাবার বাড়িতে রয়েছেন।

মিন্নির পরিবার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও দীর্ঘদিন কারাভোগের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। স্বামীর নৃশংস খুন নিজ চোখে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠেন মিন্নি। চিৎকার করে ওঠেন নিজের অজান্তেই।

তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মিন্নির উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তিনি ভীষণ অসুস্থ। কিন্তু মামলার পরবর্তী তারিখ কাছাকাছি থাকায় তাকে ভালো কোনো হাসপাতালে ভর্তি করা যাচ্ছে না। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে তার।

মিন্নি দুই শর্তে হাইকোর্টের রায়ে জামিন পেয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। মিন্নির বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে মিন্নি ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল, চঞ্চল ও সদালাপী। কিন্তু বর্তমানে পাল্টে গেছেন মিন্নি। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকাছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ মিন্নি এখন স্বামী রিফাত শরীফের স্মৃতিতে কাতর। তবে মিন্নির এমন জীবনযাপনে উদ্বিগ্ন তার বাবা-মা।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে মেয়েটার ওপর। দুই হাঁটুতে কালো দাগ রয়েছে মিন্নির। হাঁটুর ব্যথায় হাঁটতে পারে না সে। চঞ্চল ও সদালাপী মিন্নি এখন কারও সঙ্গে কথা বলে না। খেতে চায় না কিছুই। নিজের ঘরে সবসময় চুপচাপ থাকে সে। কখনো কখনো কাঁদে মিন্নি। যে ঘরে মিন্নি থাকে সেই ঘরে রিফাতের সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি। এসব স্মৃতি মিন্নিকে আপ্লুত করে। ঘুমের মধ্যেও কেঁদে ওঠে, চিৎকার করে মিন্নি’।

মিন্নির অসুস্থতার বিষয়ে জানতে তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিন্নির অসুস্থতার বিষয়টি আমি জানি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে কথা বলেছি আমি। মিন্নির চিকিৎসার জন্য আমি মিন্নির বাবাকে পারামর্শ দিয়েছি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখ রয়েছে। তার আগেই মিন্নিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় কিংবা অন্যত্র নেয়া যাবে। কারণ ধার্য তারিখে মিন্নিকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে’।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা ও বাবার জিম্মায় থাকার শর্তে জামিন পেয়েছেন মিন্নি। জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার সময় মিন্নিকে সেই শর্তের কথা মনে করিয়ে দেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এর পর থেকে চুপ হয়ে যান মিন্নি। বাসায় ফিরে বাবা-মা ছাড়া কারও সঙ্গেই কথা বলছেন না তিনি।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো বক্তব্য না দিলেও মিন্নি তার ওপর চালানো পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনের কথা বাবাকে জানিয়েছেন।মিন্নিকে পুলিশ হেফাজতে ঘুমাতে দেয়া হয়নি জানিয়ে কিশোর বলেন, আদালতে তোলার আগের রাতে মিন্নিকে ঘুমাতে দেয়া হয়নি। সারা রাত দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেও দেয়া হয়নি।’

উল্লেখ্য, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ১৬ জুলাই মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তা শেষ হওয়ার আগেই ১৯ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা মিন্নিকে বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করেন। মিন্নি গ্রেফতারের এক মাস ১৮ দিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মঙ্গলবার বরগুনা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।