ঢাকা বুধবার, ৫ই অক্টোবর ২০২২, ২১শে আশ্বিন ১৪২৯


বৃষ্টির দেখা নেই, ধান নিয়ে দুশ্চিন্তা কৃষকের


২১ আগস্ট ২০২২ ১৭:৩১

ছবি- সংগৃহিত

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় তীব্র তাপদাহে খরায় রোপা আমন ধানের জমি ফেটে চৌচির।ভাদ্র মাসের শুরুতেই চৈত্র মাসের মতো খরা। কাঠফাঁটা তপ্ত রোদে ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির দিকে চেয়ে আছে মানুষসহ প্রাণীকুল। লাগানো জমিতে ধান বাঁচাতে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক।

ভরা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির দেখা নেই। প্রখর রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে জমি। রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়েছে রোপা আমন ধানের চারা। জমি চাষ, শ্রমিকের মজুরি, তেলের দাম বৃদ্ধি, সার ও কীটনাশকের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। ফলে ধান উৎপাদনে কৃষকের স্বপ্ন পূরণ হবে সে আশা এখন গুড়েবালি। খেতে আমনের চারা রোপনের পর এখন পানির অভাবে মাটি ফেটে চৌচির হওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষক সময়মত জমিতে রোপা আমন রোপন করতে পারছে না। দেরি করে সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করে রোপন করলেও লোডশেডিং ও রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়েছে রোপা আমন ধানের চারাগুলো। ফেটে চৌচির হচ্ছে আবাদি জমি সহ নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য সবজির জমি। সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সেচের পানি দিয়েও এক দিনের বেশি জমিতে পানি জমিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এদিকে উপজেলার নান্দাইল, শেরপুর, চণ্ডীপাশা ও সিংরইল ইউনিয়নে একই চিত্র দেখা গেছে।রোপা আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে আছে। কোথাও বৃষ্টির ছিটেফোটা নেই।

এ সময় রোপণকৃত জমি বৃষ্টির পানিতে জলমগ্ন থাকার কথা থাকলেও আবাদি জমি ফেটে চৌচির হয়েছে। বৃষ্টির জন্য দিন গুনছেন তারা। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন কখন হবে বৃষ্টি। কয়েকজন আবার সেচ পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপন করলেও এখন লোডশেডিং এর কারণে সময় মতো পানি দিতে পারছেন না।ডিজেল চালিত মেশিন দিয়ে একবার সেচের পানি দিতে গেলেও খরচ হয় প্রতি ১০ শতাংশ জমিতে ৩৫০-৪০০ টাকা। ফলে নিরুপায় হয়ে ফসল বাঁচাতে কেউ কেউ বাড়তি খরচে জমিতে সেচের পানি দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ভালো ফলনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন কৃষকেরা। অনেক কৃষক জমি চাষ করে রাখলেও পানির অভাবে রোপন করতে পারছেন না। সেচ ব্যবস্থা না থাকায় পানির অভাবে জমিগুলো পতিত রয়েছে। আমন রোপনের জন্য তৈরি বীজতলায় ধানের চারা নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষক এসব ধানের চারা গরুকে খাওয়াচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক মজলু,কামাল,আরমান সহ অনেকের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন,মৌসুমি বৃষ্টির পানি দিয়ে জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকে বৃষ্টির দেখা মিলছে না।

এতে করে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় দিন পার করেছেন। বৃষ্টি না হলে আমন মৌসুমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে না। এতে দেশে খাদ্যসংকট দেখা দেবে। লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে সেচের পানিও দেওয়া যাচ্ছে না।নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা সহ এ বছর ২২ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩ হাজার ৬২৪ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে ১৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজ রোপণ করা হয়েছে।

নান্দাইল ইউনিয়নের সাভার গ্রামের কৃষক মোঃআব্দুর রাজ্জাক বলেন, সেচের পানি দিয়ে ধান লাগাইছি। বৃষ্টি নাই, এখন ধানের চারা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক জায়গায় জমি ফেটে ধানের চারা নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সেচের মাধ্যমে পানি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।