ঢাকা রবিবার, ১৮ই মে ২০২৫, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২


ট্রমা-শ্বাসকষ্টে ভুগছেন ধর্ষণের শিকার ঢাবি ছাত্রী


৭ জানুয়ারী ২০২০ ২৩:৪১

ট্রমা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীটি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দিতে চেষ্টা চলছে। এসব কথা জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।

আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ওই ছাত্রী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। ঢামেক পরিচালক বলেন, মেয়েটির মেন্টালি ট্রমা ছাড়াও শারীরিক কিছু আঘাত রয়েছে। পাশাপাশি সে কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে এবং আমরাও কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছে। এই অবস্থায় তার সঙ্গে দেখা করা, কথা বলা তার জন্য অস্বস্তিকর। কেউ যেন আমরা তার কাছে না যাই।

ধর্ষণের আলামতের বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগ দেখছে। পাশাপাশি তাকে ঢামেকের নাক কান গলা বিভাগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার যেহেতু শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, সেজন্য রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগসহ আরও কিছু বিভাগের ডাক্তারদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরে ঢামেক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় ঢামেকের গাইনি বিভাগের প্রধান সালমা রউফকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় ওই ছাত্রীকে। তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ঢাবির নিজস্ব বাসে রওনা দেন তিনি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামেন। এরপর একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে সড়কের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। ধর্ষণের একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। রাত ১০টার দিকে নিজেকে একটি নির্জন জায়গায় আবিষ্কার করেন ওই ছাত্রী। পরে সিএনজি নিয়ে ঢামেকে আসেন। রাত ১২টার দিকে ওই ছাত্রীকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান তার সহপাঠীরা। ধর্ষণের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রীর বাবা। রোববার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

নতুনসময়/আইকে