ঢাকা সোমবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ই আশ্বিন ১৪২৮


ডুমুরিয়ায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা বিপাকে কৃষক


২ আগস্ট ২০২১ ২০:৫১

ছবি- সংগৃহিত

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টিপাতে চুকনগর কাঁঠালতলা এলাকার কয়েকটি বিলে তৈরি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। সেই সাথে তলিয়ে গেছে মৎস্য ঘের সহ নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত বাড়িঘর।একদিকে যেমন চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষ করা নিয়ে শংকায় রয়েছে কৃষকরা ঠিক অন্যদিকে মৎস্য ঘের মালিকদের ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার।সরেজমিনে চুকনগর খুলনা মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে মহিষ কুড়া,পাতাখোলা,পাঠন পাড়া, ভায়নার বিলে গেলে দেখা যায় জলাবদ্ধতা।এই সকল বিলের পানি নিষ্কাশন হয়ে যায় ভদ্রা নদীতে। সেই পানি অপসারনের এক মাত্র পথে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বাঁধ। এছাড়াও ভদ্রা নদী পুনঃ খননে খর্ণিয়া থেকে ভদ্রা নদী বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে বাঁধটি।এলাকার অধিকাংশ কৃষকের দাবী অতিশীঘ্র ভদ্রা নদীর বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করা।দ্রুত এ কাজটি না করা হলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা আমন ধানের উৎপাদন অনেকাংশে লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন স্হানীয় কৃষকরা।

এছাড়াও চুকনগর যশোর রোডের পাশে রয়েছে শোলাকুড়,হাতিপোতা ডাঙ্গি বিল এই বিলের সব পানি নিষ্কাশন হয় বুড়ি ভদ্রা নদীতে।সেই পানি নিষ্কাশনের জায়গাগুলো এখন দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল। পানি নিষ্কাশনের জায়গাগুলো দখলে নিয়ে গড়ে তুলেছে বহুতল ভবন সহ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ।

যে কারনে এই বিলে আমন ধান চাষ করা নিয়ে মহা বিপাকে রয়েছে কৃষকরা। জমির মালিকদের সাথে কথা বললে প্রায় সকলেই এই বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করার জন্য দাবি জানান।সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিলে জানা যায় চলতি মৌসুমে এসমস্ত বিলে আমন ধান,মৎস্য চাষ হয়। পানি নিষ্কাশন না হলে ধান ও মাছ উৎপাদন কম হবে বলে জানাযায়।অফিস সূত্রে জানা যায় ভারী বৃষ্টির কারনে চুকনগর কাঁঠালতলা এলাকার কয়েকশ মৎস্য ঘের ও পুকুর থেকে সাদা মাছ ও সোনা খ্যাত চিংড়ি সহ অনান্য প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে এবং কয়েকটি কাঁকড়া খামার এই জলাবদ্দতার কারনে তলিয়ে গেছে।
কারণ হিসাবে সকল চাষী সহ স্থানীয়রা সকলেই বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাবস্থা না করাকেই দায়ী করছেন।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়,দেশের গলদা উৎপাদনের ১৯ ভাগ এই উপজেলাতেই হয়। আর জেলার উৎপাদনের মধ্যে ৬০ ভাগ হয় অত্র উপজেলাতে ।গত অর্থ বছরে ৬৬৯৫ মে.টন মাছের চাহিদা ছিল তার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১০৩৫০ মে.টন। কিন্তু এবছর একনাগাড়ে কয়েকদিন বৃষ্টির কারনে বিভিন্ন বিলে জলাবদ্ধতার কারনে ঘের তলিয়ে যাওয়া, আমন ধান চাষ করা নিয়ে শংকায় থাকলেও কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেনি কতৃপক্ষ। যেটাকে কৃষক মৎস্যচাষী এমনকি স্থানীয়রা ভালোভাবে দেখছেননা বিষয়টাকে। এবিষয় নিয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন আমি সরেজমিনে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ঘুরে যেখানে যেখানে জলাবদ্ধতা আছে অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করার আশা ব্যক্ত করেন।