ঢাকা শনিবার, ১৭ই জানুয়ারী ২০২৬, ৫ই মাঘ ১৪৩২


জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট কখনও আদর্শভিত্তিক ছিল না— বলছেন বিশ্লেষকরা


১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:৪৯

সংগৃহীত

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট কখনও আদর্শভিত্তিক ছিল না— বলছেন বিশ্লেষকরা

ভোটের মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট কখনও আদর্শভিত্তিক ছিল না। বরং ইসলামকে উপজীব্য করে নির্বাচনী আসন সমঝোতার প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় ১১ দলীয় জোট ভেঙে ১০ দলের জোটে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ভোটের মাঠে এর কোনো ভূমিকা নেই। জোটের একক নেতৃত্ব না থাকায় ভাঙনের শঙ্কা-ও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

 

মূলত, জামায়াতে ইসলামের সাথে অন্য ধর্মভিত্তিক দলগুলোর টানাপোড়েন বরাবরই ছিলো। ২৪'র গনঅভ্যুত্থানের পর সেই দূরত্ব কমাতে সক্রিয় হন নেতারা। 'ওয়ান বক্স পলিসি' অর্থাৎ ইসলামী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে, এই স্লোগান নিয়ে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসসহ আটটি সমমনা দল মোর্চা গঠন করে জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়ন সহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে। নির্বাচনের তফসিলের পর আন্দোলন থেকে সরে এসে তারা তৎপর হয় আসন ভাগাভাগিতে।

 

আসন সমঝোতার আলোচনার মধ্যেই ধর্মভিত্তিক দলের বাইরে এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপি আসন ভাগাভাগিতে যোগ দেয়। আসন বন্টন রূপ নেয় ১১ দলীয় ঐক্যে। এই ৩টি দলকে অন্তর্ভুক্ত করায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ একমত হয়নি। এতে আসন ভাগাভাগিতেও প্রভাব পড়ে। জোটের অন্যতম প্রধান দল ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ১০০ আসন থেকে ৫০ এ নামলেও জামায়াতের সাথে আপোসরফা হয়নি শেষ পর্যন্ত।

 

এরই জেরে জোট বর্জন করে চরমোনাই পীরের দল। ইসলাম পন্থার কথা বলে যে জোট গঠন হয়েছিলো, আদতে সেটি ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম ছিল কিনা, সেও প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ভোটে জিতে সরকার গঠন করলে মন্ত্রিপরিষদে কার অবস্থান কী হবে, কে প্রধানমন্ত্রী হবে বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবে— এটি নিয়ে তাদের মধ্যে 'উইন-উইন সিচুয়েশন' রয়েছে। এই ১০ দলীয় জোট যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে পারে দীর্ঘসময়, তাহলে তারা রাজনৈতিক ফ্যাক্ট হতে পারে। অপরদিকে, কয়েকদিন পরপরই যদি ঐক্য ভাঙার পরিস্থিতি তৈরি হয়; তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষও তাদেরকে আর আস্থায় রাখবে না— এমন শঙ্কাও রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, পূর্বে যাদের রাষ্ট্র চালানোর অভিজ্ঞতা নেই বা ক্ষমতার চর্চা কম; তাদের মধ্যে সরকারে থাকা কিংবা প্রধান বিরোধী দল হওয়া, দুই প্রেক্ষাপটেই জোটের দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অন্তর্দ্বন্দ্বও দৃশ্যমান হতে পারে। 

 

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাঠে জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলোর প্রভাব নেই ঠিকই। কিন্তু, ঐক্যবদ্ধ থাকলে, কোনো একটি দল স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবে না। জোটে ভাঙন হতে থাকলে, জনমনে আস্থাহীনতা বাড়বে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব কায়সারের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ সংসদের জন্য একটি দল বা মোর্চা শক্তিশালী না হয়ে বরং একটি বাইনারি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকা প্রয়োজন। হয় দুইটি দল অথবা জোট, দুটিই শক্তিশালী হওয়া ভালো। এতে সংসদ ভালো ও প্রাণবন্ত হবার পাশাপাশি কেউ ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে না।  

 

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০শে জানুয়ারি। এর আগেই সব দল ও জোটকে তাদের আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। যে অবিশ্বাস- ফাটল তৈরি হয়েছে ,জোট টিকে গেলেও সেই ঐক্যে আস্থা কতটা থাকবে সন্দেহ বিশ্লেষকদের।