ঢাকা বুধবার, ৫ই অক্টোবর ২০২২, ২১শে আশ্বিন ১৪২৯


পল্লবীর ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা


১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:২০

ছবি- সংগৃহিত

পল্লবী থানার পাশে মিরপুর ডিওএইচএস রোডসংলগ্ন সাদ মুসা গ্রুপের সম্পত্তি নিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্যকারী কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন সাদ মুসা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মোহসিন।

পাশাপাশি একই অভিযোগে তিনি পল্লবী থানা পুলিশের বিরুদ্ধেও ‘অসহযোগিতার’ অভিযোগ এনেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গ্রুপের অভিযোগ, ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিপক্ষরা তাদের মালিকানাধীন জায়গায় অনধিকার প্রবেশ করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় ভুক্তভোগীরা জিডি করলেও পুলিশ আদালতের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগে জানানো হয়।

লিখিত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পল্লবী থানার পাশে মিরপুর ডিওএইচএস রোডসংলগ্ন নালিশি জমিতে বিবাদী একেএম আব্দুস সালাম গংদের বিরুদ্ধে ঢাকার ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি ৪২৪/২০২২নং মোকদ্দমা রুজু করেন। বিবাদীর ভুয়া ও জাল-জালিয়াতিপূর্ণ ৫৫৩৭নং সাফ কবলা দলিল এবং সিটি জরিপ নামজারি ৩২৯০৫নং খতিয়ান বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা রুজু করে ১নং বিবাদীর বিরুদ্ধে ঢাকার ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রার্থনা করেন। আদালত গত ৩১ আগস্ট বাদীপক্ষের দাখিলি কাগজ পর্যালোচনায় আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় বাদীর মামলার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় নালিশি সম্পত্তির আকার-প্রকৃতি ও পরিবর্তন সংক্রান্তে ১নং বিবাদীপক্ষকে অন্তর্র্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার সমন নোটিশ পেয়ে বিবাদীপক্ষ ভূমিদস্যু একেএম আব্দুস সালাম এবং তার বাহিনীর প্রধান মো. তোফাজ্জাল হোসেন ওরফে জামান মাস্টার বাদীর মালিকানাধীন দখলীয় ভূমি অবৈধভাবে দখল করতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানার ওসি এবং এসআই মো. কাউসার মাহমুদের সহযোগিতায় বাদীর বায়া কর্তৃক নালিশি ভূমির চতুর্পাশে ৩০ বছর পূর্বে নির্মিত সীমানা দেওয়াল ভেঙে ঘর নির্মাণ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, থানার ওসি এবং এসআইয়ের সঙ্গে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করেছেন। সেজন্য ওসি এবং এসআই মো. কাউসার মাহমুদ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আইনের তোয়াক্কা না করে বাদীকে আইনত কোনো সহায়তা না করে এ বিষয়ে এজাহার গ্রহণ করা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং একেএম আব্দুস সালামকে অবৈধ, বেআইনি নির্মাণে সহযোগিতা করে বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে।

দেশের বৃহৎ করদাতা শিল্প প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রক্ষার জন্য সাদ মুসা গ্রুপ গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে একেএম আব্দুস সালাম, মো. তোফাজ্জল হোসেন ওরফে জামান মাস্টার, ইসতেহাক আহেম্মদ (সহকারী কমিশনার ভূমি), সার্ভেয়ার মো. নুরুল ইসলাম এবং পল্লবী থানার ওসি ও এসআই মো. কাউসার মাহমুদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গ করায় শাস্তি প্রদানের জন্য মামলা দায়ের করেন।
এ খবর পেয়ে দখলদাররা তাদের অবৈধভাবে নির্মিত টিনশেডের পাশাপাশি রোববার পাকা দেওয়াল নির্মাণ করেছে এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের থাকার জন্য সাদ মুসা গ্রুপের নিরাপত্তা রক্ষীদের পিটিয়ে বের করে দিয়ে তাদের ঘরও দখল করে নেয়।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসিকে কল দিলে তিনি বলেন, পুলিশ কী সারাক্ষণ জমি পাহারা দেবে? জমির বিষয়ে পুলিশ কাজ করে না।