ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ই জানুয়ারী ২০২৬, ২৪শে পৌষ ১৪৩২


ডাইনোসরের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম বা অপরিশোধিত তেলের সম্পর্কটা কী?


৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:৪২

সংগৃহীত

অপরিশোধিত তেল বা পেট্রোলিয়াম বর্তমান বিশ্বের অন্যতম চালিকাশক্তি। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ তো বটেই; যেসব অঞ্চলে এটির মজুদ রয়েছে (যেমন: ভেনেজুয়েলা, সৌদি আরব, কাতার) সেসব এলাকার ভৌগলিক অবস্থান তথা ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে অন্যরকম। প্রতিদিন কয়েক কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয় ভূ-গর্ভস্থ খনি থেকে। তবে প্রাগৈতিহাসিক সময়ে এই গ্রহে বাস করা ডাইনোসরের সঙ্গে মিথগতভাবে ওতপ্রোত জড়িয়ে রয়েছে এই ব্ল্যাক গোল্ড খ্যাত পেট্রোলিয়ামের নাম।

 

প্রশ্ন উঠতে পারে, এই তেলের সঙ্গে ডাইনোসরের সম্পর্ক কী? সময়ের বিবর্তনে আজকের এই জৈব যৌগ পদার্থটির বর্তমান রূপের নেপথ্যে কীভাবে জড়িত বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটি?

 

মূলত, পেট্রোলিয়াম শব্দটি ল্যাটিন শব্দ পেত্রা এবং ওলিয়াম— এই দুইয়ের সমন্বয় থেকে এসেছে। পেত্রা অর্থ পাথর। অপরদিকে, ওলিয়াম অর্থ তেল। সে হিসেবে পেট্রোলিয়াম বলতে পাথর বা মাটি খুঁড়ে উত্তোলন করা তেলকে বোঝানো হয়। এটি মূলত হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ যা লাখ লাখ বছর ধরে রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়ে এক পর্যায়ে তরল রূপ নেয়। খনিতে পাওয়া অপরিশোধিত তেল থেকেই উচ্চচাপ ও তাপে আলাদা করা হয় পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিনসহ আরও অনেক কিছু যা শক্তি ও জ্বালানির অন্যতম উপাদান।

 

মিথগত ভাষ্যে অবশ্য একটা ধারণা রয়েছে। আজকের অপরিশোধিত তেল মজুদের প্রায় ৭০ শতাংশ মেসোজোয়িক যুগে গঠিত। সময়ের পরিক্রমায় যা ২৫ কোটি ২০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে। তিনটি আলাদা সময় তথা ট্রায়াসিক, জুরাসিক এবং ক্রিটেসিয়াসে বিভক্ত এই মেসোজোয়িক। এটি মূলত সরীসৃপের যুগ হিসাবেও পরিচিত এবং ডাইনোসররা এই সময়েই সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছিল। তাই তেলের প্রাথমিক উৎপত্তির সময়কাল হিসেবে যেহেতু এই যুগকে নির্দেশ করা হয় এবং সেসময় সরিসৃপ তথা ডাইনোসনের পদচারণা বিপুল সংখ্যক থাকায় অপরিশোধিত তেলের মূল উপাদান ডাইনোসরের মৃতদেহ থেকেই এসেছে বলে একটা কথা প্রচলিত আছে।

 

তবে, এর রাসায়নিক প্রক্রিয়া অন্য কথা বলে। তেল মূলত আসে কোটি কোটি ক্ষুদ্র শৈবাল এবং প্ল্যাঙ্কটন থেকে। এর উৎপত্তির পেছনে মূল উৎস বড় কোন সরীসৃপ নয়। বরং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণীর মৃতদেহ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় রূপান্তরের মাধ্যমে এই রূপ পায়। তেলের উৎস সম্পর্কে সবচেয়ে স্বীকৃত তত্ত্বটি হলো— সমুদ্র এবং হ্রদগুলোর তলদেশে জমে থাকা প্রাণী এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম শৈবাল পচে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে এটি।

 

প্রক্রিয়াকালে নির্দিষ্ট সময়ের পর গঠিত হয় কেরোজেন। এটি নানা ধরণের জৈব পদার্থের মিশ্রণ। অনেক সময় ধরে তাপ ও চাপ বৃদ্ধি পেতে পেতে এক পর্যায়ে হাইড্রোকার্বন চেইন গঠন করে, জৈব পদার্থগুলোর উপরে অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক স্তরগুলো জমতে জমতে চাপ এবং তাপ বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এতে ধীরে ধীরে জৈব পদার্থগুলো অল্প পরিমাণে অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশে হাইড্রোকার্বনে রূপ লাভ করে।