ঢাকা বুধবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ই ফাল্গুন ১৪৩২


পুলিশের পোশাক বিতর্ক: পরিবর্তন জরুরি কীসে?


২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৬

সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে একের পর এক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ইমেজ সংকটে পরে বাহিনীটি। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুলিশে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে গেলো বছরের নভেম্বর থেকে নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন শুরু করে বহিনীর সদস্যরা।

 

সে সময় সব পুলিশের জন্য একই পোশাক চালু করা হয়। বৈষম্য দূর করতেই এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় বাহিনীটি। 

 

তবে, নতুন পোশাক গায়ে ওঠার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ফের পোশাক পরিবর্তনের দাবি তুলেছে।

 

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, নতুন যেটা দিয়েছে এটা তো আসলে কোনো গবেষণা অথবা জনমত যাচাই ছাড়া; সেটির মান কী রকম, এক-দুইবার ধোয়ার পরে ওই কাপড়ের রঙ আর যে স্ট্যান্ডার্ড সেটি থাকে না। পুলিশকে তো সারাক্ষণ অন ডিউটিতে থাকতে হয়। 

 

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সবার আগে পরিবর্তন আনতে হবে বাহিনীর মানসিকতায়। শুধু পোশাক বদলালেই পুলিশের আচরণে পরিবর্তন আসবে না। 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশের সাবেক কিংবা যারা এখন দায়িত্বে আছেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ এটা প্রতিবাদ করতে পারলো না যে, আমরা এই রঙের পোশাক চাই না। পুলিশের এই উপলব্ধিকে আমরা বলি যে বিলম্বিত বোধদয়। এই বিলম্বিত বোধদয়ের মধ্য দিয়ে পুলিশ আগের রঙের পোশাকে ফিরবে কি, ফিরবে না সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত। কিন্তু এতটুকু আমরা বুঝি দুই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গেলে রাষ্ট্রের একটা বড় অর্থের অপচয় এখানে হয়েছে। এই অপচয় বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা বা সামর্থ্য রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের নেই।

 

উল্লেখ্য, গেলো বছর পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২ লাখের বেশি সদস্যের প্রত্যেকের জন্য তিন সেট করে নতুন পোশাক, বুট, বেল্ট ও ক্যাপের পেছনে দেড়শ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে।