ঢাকা বুধবার, ২৩শে অক্টোবর ২০১৯, ৮ই কার্তিক ১৪২৬


পপুলারের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তরুণীকে চুমু ও স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়ার অভিযোগ


১৬ জুন ২০১৯ ২১:১২

আপডেট:
২৩ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:১৮

ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালেও এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। অভিযুক্ত চিকিৎসক চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার কসমেটিক সার্জন ডা. মো. শওকত হায়দারের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী ব্রণের ইনফেকশন আছে কিনা দেখার ছলে তার গালে চুমু ও শরীরে হাত দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

শনিবার (১৫ জুন) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পপুলার হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী।

ওই তরুণীর বক্তব্য তিনি অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছে ফোন করে তার কৃতকর্মের কারণ জানতে চাইলে ডা. শওকত বলেন, ওটা কিছু না, ইনফেকশন আছে কিনা দেখছিলাম। পরে তরুণী বলেন, এমন তো আমি কখনো দেখিনি, ইনফেকশন আছে কিনা সেটা কোনো ডাক্তার কি ঠোঁট দিয়ে চেক করে? এসময় ডাক্তার শওকত হায়দার ওই তরুণীকে বলেন, তিনি দুঃখিত।

ঘটনার বিবরণে ওই তরুণী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ত্বকে ব্রণের সমস্যা নিয়ে পরিচিত একজনের রেফারেন্সে প্রথমবার পপুলার হাসপাতালের ওই ডাক্তারের কাছে যান তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজনে আরো কয়েকবার ডাক্তারের কাছে যান তিনি।

সর্বশেষ শনিবার দুপুরে ওই তরুণী ডা. শওকতকে জানান তার ত্বকের সমস্যা আবার বেড়েছে, রাতে তিনি চেম্বারে বসবেন কিনা? এ সময় ওই ডাক্তার চেম্বারেই আছেন জানিয়ে মেয়েটিকে তখনই যেতে বলেন।

পরে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ওই তরুণী জানতে চান তার সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আছে কিনা। এ সময় সেই ডা. শওকত বলেন, যদি সে চায় তবে একটা ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে। তরুণী ইনজেকশন দিতে রাজি হলে ওই ডাক্তার তার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন।

পরে ওই তরুণী চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার মুখে ইনফেকশন দেখার কথা বলে চুমু দেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার কসমেটিক সার্জন ডা. মো. শওকত হায়দারের মতামত জানতে তাকে ফোন করা হলে ডা. শওকত ওই প্রতিবেদককে সামনাসামনি বসে কথা বলার প্রস্তাব দেন। বলেন, সামনাসামনি বসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। পরে বার বার প্রশ্নের মুখে তিনি ফোন কেটে দেন।

এ ঘটনায় পপুলার হাসপাতালের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান অচিন্ত্যকুমার নাগ জানান, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তারা বিব্রত বোধ করছেন। দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তারা। অপরাধীকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।


নতুনসময়/এনএইচ