[email protected] শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ

বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামিরের সব পদ স্থগিত

মোঃ রমজান আলী প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬ ০০:০৫ এএম

সংগৃহিত

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে তাঁর দলীয় সব পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যবসায়ী মফিজুর রহমানকে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল জামির হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা বিবেচনায় বিষয়টির সম্মানজনক নিষ্পত্তি ও ভবিষ্যতে স্থগিতাদেশ পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে বলেও জানানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর একটি যাত্রাপালাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি করা হলে ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকেই জামির হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১১ এপ্রিল জামির হোসেন তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তুলে মফিজুর রহমানের দোকানে যান। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এর জন্য দোকান কর্তৃপক্ষ দায়ী।

মফিজুর রহমান বলেন, ওই দিন সন্ধ্যায় বিকাশ কাস্টমার কেয়ার বন্ধ থাকায় তিনি জামির হোসেনকে পরদিন আসতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জামির হোসেন হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে তিনি কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে দোকানে হামলা চালান। এ সময় লাঠিসোঁটা ও চেয়ার দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আবারও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালানো হলেও ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগে অনড় থাকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থার দাবি ওঠে। পরে জেলা বিএনপি জামির হোসেনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জামির হোসেন বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে দোকানে যান। সেখানে বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সম্পর্কিত খবর


চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ

বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামিরের সব পদ স্থগিত

মোঃ রমজান আলী

প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬ ০০:০৫ এএম

সংগৃহিত

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে তাঁর দলীয় সব পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যবসায়ী মফিজুর রহমানকে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল জামির হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা বিবেচনায় বিষয়টির সম্মানজনক নিষ্পত্তি ও ভবিষ্যতে স্থগিতাদেশ পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে বলেও জানানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর একটি যাত্রাপালাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি করা হলে ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকেই জামির হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১১ এপ্রিল জামির হোসেন তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তুলে মফিজুর রহমানের দোকানে যান। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এর জন্য দোকান কর্তৃপক্ষ দায়ী।

মফিজুর রহমান বলেন, ওই দিন সন্ধ্যায় বিকাশ কাস্টমার কেয়ার বন্ধ থাকায় তিনি জামির হোসেনকে পরদিন আসতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জামির হোসেন হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে তিনি কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে দোকানে হামলা চালান। এ সময় লাঠিসোঁটা ও চেয়ার দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আবারও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালানো হলেও ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগে অনড় থাকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থার দাবি ওঠে। পরে জেলা বিএনপি জামির হোসেনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জামির হোসেন বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে দোকানে যান। সেখানে বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সম্পর্কিত খবর