ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর ২০১৯, ৩০শে কার্তিক ১৪২৬


মাশরাফির সিদ্ধান্তে ফেসবুকে তুমুল ঝড়


২৬ নভেম্বর ২০১৮ ১৬:৩৯

আপডেট:
২৬ নভেম্বর ২০১৮ ১৯:৫৬

সম্প্রতি রাজনীতিতে নাম লেখিয়েছেন মাশরাফি। তুলেছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন।

কেউ কেউ এমনও বলা শুরু করে দিয়েছেন, খেলাটা ছেড়েই তবে মাশরাফির রাজনীতিতে নাম লেখানোর প্রয়োজন ছিল। কারও কারও বক্তব্য, আর কিছুদিন পরে রাজনীতিতে নামলে কি হতো? এখনও তো তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক। খেলা আর রাজনীতি দুটি একসঙ্গে চালাবেন কিভাবে?

তিনি কি কারণে রাজনীতি আসছেন তার ব্যাখ্যা দিয়ে মাশরাফি ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেন। এ স্যাটাসের পর মাশরাফির তীব্র সমালোচনা শুরু করে দেয় তার ভক্তকুল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মাশরাফিকে নিচে নামিয়ে দিলেন ভক্তরা। মাশরাফিকে নিয়ে করা কয়েকজন ভক্তের মন্তব্য হুবহু তু্লে ধরা হল:

রোকন উদ্দিন খান মাশরাফির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, আপনি নড়াইল নিয়ে পরে না থেকে পুরো দেশের ভাগ্যের উন্নয়নে নতুন একটি দল গঠন করলে সবাই আপনাকে সাপোর্ট দিত। আফসোস আপনি বাংলাদেশের দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বলয় থেকে বেরিয়ে এসে নতুন আশার দিগন্ত ছড়ানোর সম্ভাবনাকে নিজ হাতে নষ্ট করলেন!

হুমায়রা তাবাচ্ছুম হিমি নামের এক ভক্ত মাশরাফিকে বিদ্রুপ করে লিখেছেন, আগে মানুষ এন্টারটেইমেন্ট পেতো মিস্টার বিন দেখে, তারপর আসলো সুলায়মান সুখন, তারপর জাফর ইকবাল, এখন এসেছে নতুন এক..., তাকে করে দাও একটু স্থান!

মাসুম আহমেদ নামে আরেক ভক্ত লিখেছেন, সময়ের সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনি সেটা নিশ্চয়। তবে দল নির্বাচনে হয়তো ভুল করেছেন। আপনি আওয়ামীলীগ বা বিএনপি থেকে নমিনেশন নেওয়া মানে অন্য দলের চক্ষুশূল হওয়া। এই নির্বাচনে যদি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে, তাহলে কি করতে পারবেন আপনি? আপনি কি প্রতিহিংসার শিকার হবেন না? আপনাকে কি কাজ কর‍তে দেওয়া হবে? আপনাকে কি জেলে যেতে হবে না? আপনার চরিত্রে কি মিথ্যা দাগ লাগানো হবে না?

‘কারণ, এই দুই দলই প্রতিহিংসার রাজনীতি করে, যা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। আপনি যদি সতন্ত্র থেকে নমিনেশন নিতেন তবুও আপনি জয়ী হতেন, আপনার আসনে। আর তাতে প্রতিহিংসার শিকার হতেন না। আমি মনে করি রাজনীতিতে আসা আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো, কিন্তু আওয়ামীলীগের ব্যানারে আসাটা ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার পরিনাম আপনাকে ভুগতে হবে ভবিষ্যতে।’


মঞ্জুরুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, আপনি দেশের জন্য বিভিষীকাময় কালো কোট গায়ে চড়িয়েছেন, ১৬ কোটি মানুষের জার্সি আপনি আর গায়ে দিবেন না, আল্লাহর দোহায় । দেশের হয়ে এক দানবের দোসর মাঠে খেলতে নেমেছে এটা কল্পনাও করতে পারছি না।

নজরুল ইসলাম প্রিন্স লিখেছেন, আপনি আগে ছিলেন পুরো জাতির এখন শুধুই লীগের। তানাহলে আগে এতো চাপাবাজী করতেন না। আগে লাল বলে মাঠ কাপিয়ে ছিলেন এখন লাল রক্তে রঞ্জিত হবে আপনার দুই হাত। হয়ে গেলেন হাজারো সন্তান হারা মায়ের কান্নার দায়ীদের মধ্যে একজন। উন্নয়ন দেখেছেন দুঃশাসন আপনার চোখে পড়ে নাই দেখে আমরা পুরাই মর্মাহত । সবার প্রিয় মাশরাফির অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

কাজী সেলিম উদ্দিন নামে এক বলেছেন, কাক কোকিল হতে চায়, কিন্তু কোকিল কখনো কাক হতে চায় না। আপনি বাংলার ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখেন নাই, দেখেছেন শুধু নিজের স্বার্থ। আপনার প্রতি রইল একরাশ ঘৃণা আর ঘৃণা।

তানিয়া খান নামে এক ভক্ত তীব্র হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘বস, তোমার লিখাটা পড়ে হতাশ আমি।
আমি উন্নয়ন দেখিনি কিন্তু বড় বড় বাজেট করে টাকা নিজদের পকেটে নিতে দেখেছি। আমি উন্নয়ন দেখিনি ব্যাংক লুট,বাংকের রিজার্ভ চুরি, বাংকের স্বর্ণ তামা, স্যাটেলাইটের নামে দেশে কোটি টাকা আত্মসাত করতে দেখেছি।
হাজারো পরিবারের হাসি কেড়ে নিতে দেখেছি, হাজারো সন্তানের বাবা ডাকার অধিকার কেড়ে নিতে দেখেছি, হাজারো মায়ের অশ্রুসিক্ত চোখ দেখেছি, হাজারো মায়ের সন্তান হারার কান্না দেখেছি,হাজারো সন্তানের বাবা হারানোর কান্না আমি দেখেছি।
কিন্তু উন্নয়ন দেখি নাই বস.......
স্যরি.....’

এমএ