ঢাকা শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট ২০২০, ৩১শে শ্রাবণ ১৪২৭


নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে হাজী ওয়াহেদ আলী ভূঁইয়া আধুনিক ঈদগাহ মসজিদ উদ্বোধন


১২ জুলাই ২০২০ ১৯:১৫

আপডেট:
১২ জুলাই ২০২০ ১৯:১৭

 

খাঁন মাহমুদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলা খেলাফত বাজারের পশ্চিম দৌলতপুর(বারুলে) হাজী ওয়াহেদ আলী ভূঁইয়া ঈদগাহ মসজিদের কাজ আজ দুপর ১:১০ মিনিটে উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম কামাল (প্রাক্তন চেয়ারম্যান),সহ-সভাপতি হাফেজ আলী হায়দার, সেক্রেটারি জেনারেল আবুল কালাম ভূঁইয়া (আজাদ),সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাসান (কাশেদ),কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া, সহ-কোষাধ্যক গোলাম মোর্তুজাসহ প্রমুখ।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নং সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন চৌধুরী,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুল ইসলাম কামাল (প্রাক্তন চেয়ারম্যান) ও হানিফ ভূঁইয়া,বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া,আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়াসহ প্রমুখ।এছাড়া মসজিদ কমিটির আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া,গোলাম মোর্তুজা,মাস্টার জাফরুল্লাহ, মোঃ হানিফ ভূঁইয়াসহ ১৩ জন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে প্রাক্তন চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম কামাল বলেন,অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রিয় ভাতিজা আবুল কালাম ভূঁইয়া আজাদকে যার অক্লান্ত পরিশ্রম,মেধা, প্রজ্ঞার কারনেই আজ আমরা সবাই আল্লাহর রহমতে একত্রে হয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমার দাদা ওয়াজেদ আলী সেই আমলে পায়ে হেঁটে হজ্জ্ব করেছেন মসজিদ,মাদ্রাসা নির্মাণে অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন।আমার ভাই আমিনুল ইসলাম তথ্য সচিব।তিনিও আমাদের সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।আমাদের ভবিষ্যতে পরিকল্পনা রয়েছে এতিমখানা, মাদ্রাসা করার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে হাজী ওয়াহেদ আলী ভূঁইয়া ঈদগাদ মসজিদের জেনারেল সেক্রেটারি আবুল কালাম ভূইয়া (আজাদ) বলেন,বর্তমান বিশ্ব কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে বিধ্বস্ত।করোনা ভাইরাস থেকে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের হেফাজত করুক,আমিন।মহান রাব্বুল আলামিন ভালো জানেন আমার কাছে হঠাৎ মনে হল ,আমাদের একটা মসজিদ স্থাপন করার।কারণ আমরা নামাজ পড়তে দূরের একটি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে হয়।বয়োজৈষ্ঠদের অনেকের কষ্ট হয়,দুরে হওয়ায় অনেকে নামাজ পড়তে যান না,বাড়িতেই নামায আদায় করেন।কিন্তু দেখুন পবিত্র কোরআন ও হাদিসে পাচঁ ওয়াক্ত নামায মসজিদে আদায় করার গুরুত্বারুপ করা হয়েছে। মসজিদে গিয়ে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করা আমাদের প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য। তবে অসুস্থ হলে অথবা কোনো কারণে অপারগ হলে ভিন্ন কথা।মসজিদে জামাতে নামাজের গুরুত্ব ও সওয়াব অনেক বেশি।অসুস্থ অবস্থায় রাসুল (সা.) পায়ে হেঁটে ও দুইজন সাহাবির কাঁধে ভর দিয়ে জামাতে নামাজ পড়তে মসজিদে হাজির হয়েছেন।জামাতে নামাজ আদায়ের সওয়াব সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়কারী একাকী নামাজ পড়া অপেক্ষা ২৭ গুণ বেশি মর্যাদার অধিকারী।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৬৪৫, মুসলিম, হাদিসে নং: ৬৫০)।মসজিদে এসে জামাতে নামাজ আদায় করা মুসলিম পুরুষের জন্য ঐচ্ছিক নয়, ওয়াজিবও বটে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন ‘আমার প্রাণ যার হাতে, তার শপথ করে বলছি, আমার ইচ্ছা হয় আমি কাঠ সংগ্রহ করার নির্দেশ দিই আর নামাজের আজান দেওয়ার জন্য হুকুম দিই। তারপর আমি এক ব্যক্তিকে হুকুম করি, যেন সে লোকদের নামাজের ইমামতি করে। আর আমি ওই সব লোকদের দিকে যাই, যারা নামাজের জামাতে হাজির হয়নি এবং তাদের বাড়ি ঘরগুলো আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিই।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৮)।এক হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে (নামাজ শুরুর তাকবিরের সাথে) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, তার জন্য দুইটি নাজাত লিপিবদ্ধ করা হল; জাহান্নাম থেকে ও মুনাফিকি থেকে তাকে পরিত্রাণ দেওয়া হয়। (বুখারি ও মুসলিম)।অন্য আরেক হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে (ইবাদত) করল। আর যে ফজরের নামাজ জামাতসহ আদায় করল, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে (ইবাদত) নামাজ পড়ল।’ (মুসলিম)।হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) আরো বলেন, ‘যদি লোকে এশা ও ফজরের নামাজের ফজিলত জানত, তাহলে তাদের হামাগুঁড়ি দিয়ে আসতে হলেও তারা অবশ্যই ওই নামাজ দুইটিতে হাজির হতো। (বুখারি, মুসলিম)

নামাযের গুরত্বরের কথা বিবেচনা করেই আল্লাহর রহমতে আমি একটি পবিত্র মসজিদ নির্মাণ করতে ইচ্ছা করি। মহান আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আমি সবার সাথে পরামর্শ করি। অকপটে সবাই সাড়া দিয়েছেন,আলহামদুলিল্লাহ।আমি হাজী ওয়াহেদ আলী ভূইয়ার ওয়ারিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেছি।সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি, আলহামদুলিল্লাহ সারাবিশ্বের প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের মসজিদ নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করছেন।অনেকেই সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন অসমাপ্ত কাজ আল্লাহর রহমতে সমাপ্ত করতে পারি সবাই দোয়া করবেন।পরিশেষে অনুষ্ঠানটি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।