ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০শে মাঘ ১৪৩২


টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁওয়ের জামায়াত নেতার হার্ট অ্যাটাক, সিসিইউতে ভর্তি


১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১২

সংগৃহীত

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন।

 

হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-১-এর নার্সিং ইনচার্জ সোহেলা পারভীন বলেন, ‘তাকে বুধবার বিকালের দিকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা চলছে।’

 

পুলিশ জানায়, বেলাল উদ্দিন ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সৈয়দপুরে আসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে গণনা করে সেখানে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এই অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি বলেছেন, এই টাকাটি তার ব্যবসার কাজের। এখন পর্যন্ত তিনি এই অর্থের উৎসের কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। 

 

তবে আটক হওয়ার পর অসুস্থ বোধ করলে বেলাল উদ্দিনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যার হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রংপুরে স্থানান্তর করা হয়।

 

খবর পেয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে দেখাতে যান রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক আজহারুল ইসলাম। তাকে দেখে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে, জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন হার্ট অ্যাটাক করেছেন। উনার ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় হার্ট বিট ওঠানামা করছে। উনাকে এই মুহূর্তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইসিজি করা হয়েছে, সেখানে সমস্যা আছে। ইকোসহ ব্লাডের কিছু টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে সমস্যা কোন পর্যায়ে আছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত নন।’

 

বর্তমানে পুলিশের পাহারায় হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসা চলছে তার। গণমাধ্যমকর্মীদের কার্ডিওলজি বিভাগে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রবেশপথে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। 

 

বিকালে তাকে দেখতে যান রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেলাল উদ্দিন একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি ব্যবসায়ী হওয়ায় কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে ঢাকা থেকে আসছিলেন। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, যেটা প্রশাসন বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মকানুন মেনে, সেখানে এনডোর্সমেন্ট করেই নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু একটি সংস্থার লোকজনের কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে আটকে আজকে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসন সেখানে অবহিত ছিল। কিন্তু একটা বিশেষ বিভাগ তাকে আটক করেছে এবং তার বিভিন্ন প্রহসন করার কারণে বিভিন্নভাবে মানসিক টর্চারের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আগে থেকেই তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। হার্টের অসুস্থতার কারণে ডাক্তাররা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো আসলে বোঝা যাবে অবস্থা কতটা গুরুতর।’

 

বিমানবন্দরে আটকের পর জামায়াত নেতা বেলাল স্বীকার করেন তিনি শিক্ষকতা করেন। এগুলো তার গার্মেন্টস ব্যাবসার টাকা। তবু তাকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়েন।