ঢাকা রবিবার, ৩১শে আগস্ট ২০২৫, ১৭ই ভাদ্র ১৪৩২


বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, মোটরসাইকেল ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর


৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২২

সংগৃহীত

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিকের অপসারণের দাবিতে সাদুল্লাপুরে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এ সময় অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

 

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সাদুল্লাপুর শহরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ও উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। সেইসাথে, আহত হন এক পুলিশ সদস্য, এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন।

 

ডা. সাদিকের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভকারীরা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি কাউন্সিল ছাড়াই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দোসরদের পুনর্বাসন করে পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ করা হয়। তখন মইনুল হাসান সাদিক, উপজেলা নেতা ছামছুল হাসান ও ছালাম মিয়ার সমর্থিত নেতাকর্মীরা শাহিন আল পারভেজের নেতৃত্বে লাঠি নিয়ে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময়, ছামছুল-ছালাম সমর্থিতদের হামলায় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক শাকিল মিয়াসহ উভয় গ্রুপের একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

 

পরে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছামছুল হাসান ও সদস্য সচিব আব্দুস ছালাম মিয়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মাঠে নামে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাদুল্লাপুর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

 

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন আল পারভেজ বলেন, হঠাৎ করেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে চেয়ার ভাঙচুর করে। এ সময় অফিসের সামনে থাকা ৪-৫টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।

 

অপরদিকে, সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছামছুল হাসান ছামছুল বলেন, জেলা সভাপতি ডা. সাদিকের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে বিএনপির একাংশ। পরে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম মিয়া বলেন, জেলা সভাপতি ডা. সাদিকের অপসারণ দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। কিন্তু সাদিকপন্থীরা হামলা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের পক্ষের ৫-৭ জন আহত হয়েছে।

 

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।