টানা এক সপ্তাহ ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়, দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ
টানা এক সপ্তাহ ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। উত্তরে হিমেল হাওয়া গত কয়েক দিন ধরে এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার কারণে জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশা ও শিশির বিন্দুর সঙ্গে তীব্র শীতের কারণে এ জেলায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।
এদিকে গতকাল বুধবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই এখানে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত জেলার গ্রাম ও শহরের সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালককে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে।
টানা শীত ও কুয়াশার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কনকনে ঠান্ডার কারণে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য ভোর থেকেই গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
উপজেলার রনচন্ডি এলাকার বাসিন্দা মালেক বাদশা বলেন, কনকনে শরতের কারণে তেমন কাজ করতে পারছি না। শীতের কারণে হাত-পা শীতল হয়ে যায়। এতে আমাদের আয় কমে যাচ্ছে।
একই কথা বলেন জেলা সদর উপজেলা অমরখানা এলাকার বাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে খুব শীত। এই শীতের কারণে কাজকর্ম তেমন করতে পারছি না। কুয়াশার সঙ্গে বাতাস, শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ওঠানামা করছে। আজ এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা এক সপ্তাহ ধরে এ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। মূলত, উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
