ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১শে জানুয়ারী ২০২৩, ১৯শে মাঘ ১৪২৯


ব্যাংকের ‘অবস্থা খারাপ’ লিখিত দিয়ে যান, খতিয়ে দেখবো: অর্থমন্ত্রী


২৯ নভেম্বর ২০২২ ২০:১৫

দেশের ব্যাংকিং খাতের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকের অবস্থা কোথায় খারাপ লিখিত দিয়ে যান, আমরা খতিয়ে দেখবো। আমরা সব কিছুতেই পরিবর্তন এনেছি। এমনকি আগে যেভাবে বাজেট পেশ করা হতো সেখানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গৃহ নির্মাণ ঋণ ব্যবস্থাপনা মডিউলের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মো. নুরুল ইসলাম এবং অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুরশেদুল কবীর।

ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েটি ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের অবস্থা কোথায় খারাপ লিখিত দিয়ে যান, আমরা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া সরকার সার্বজনীন পেনশন স্কিম করেছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি নিজেও একজন অডিটর ছিলাম। তখন আমরা একটাই অভিযোগ পেতাম। সেটা হলো সরকার থেকে আমরা যে সমস্ত টাকা পয়সা পাই; বিশেষ করে পেনশনের টাকার জন্য মাস শেষে লাইন ধরে সারা দিন বসে থাকতে হয়। তারপরও পেনশন পাওয়া যেতে না। তখন আমি ভাবতাম এটা কী করে সম্ভব। কেন পেনশন পাওয়া যাবে না। কারণ, তখন সবকিছু ছিল ম্যানুয়াল। অটোমেশন না থাকায় এটা হত, আমরা পেনশনের বিল পেতাম না। এখন সেটা হচ্ছে না। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা সবাই জানি ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য কী। ডিজিটাল সিস্টেমে কিছু সুবিধা থাকে, সেগুলো সবাই পাবে। মোটা দাগে বলতে পারি, ডিজিটাল সিস্টেম হলে আমরা যে আবেদন করি সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। আগে যদি লাগতো এক মাস এখন সেটা হবে ১৫ দিনে। আবেদনকারীরা স্বল্প সময়ের মাঝে ঋণ ও সুদে ভর্তুকি পাবেন। যেখানে ঋণ পাওয়ার পাবেন যেখানে সুদে ভর্তুকি পাওয়ার কথা সেটা সেখানে পাবেন। আবেদনগুলো ট্র্যাকিং করতে পারবো। এ ছাড়া আবেদন কোথায় কোথায় আছে, সেটা জানা যাবে। সবচেয়ে বড় কথা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। যেহেতু আমরা পুরোপুরি অটোমেশন হয়ে যাচ্ছি ফলে আমরা সহজেই বুঝতে পারবো কোথায় কী করণীয়।

তিনি বলেন, গৃহনির্মাণ ঋণের জন্য এখন যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে তাতে দেখা যায় অধিকাংশ সময়ে একজন আবেদনকারীর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বেশ সময় লেগে যায়। আবেদনের অবস্থা কী বা কোন পর্যায়ে আছে সেটা জানারও কোনও সুযোগ আবেদনকারীর থাকে না। ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা হলে এই ধরনের সমস্যা দূর হবে বলে আশা করা যায়। ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা হলে, আবেদনকারী সরাসরি অনলাইনে অর্থ বিভাগে আবেদন করতে পারবে। ব্যাংক ও মন্ত্রণালয় মিলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে সুদ ভর্তুকির মঞ্জুরি আদেশ জারী করা সম্ভব হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি বর্তমান গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করেছি। যেভাবেই হোক আমরা অটোমেশন করবো। আমরা সব কিছুতেই পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। এমনকি আমরা আগে যেভাবে বাজেট পেশ করতাম সেখানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সব কিছুতে ডিজিটাল করা হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে অর্থ বিভাগের কারণে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলে মিলে এ কাজটি করেছেন এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা’ প্রণয়ন হয়। বর্তমানে সরকারি কর্মচারী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক/কর্মচারী এবং প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ বিচারকদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮’ জারি করা হয় ৩০ জুলাই ২০১৮। ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক/কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা’ জারী করা হয় ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ‘প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা, ২০২১’ জারী হয় ২৭ জুন ২০২১।’

নতুনসময়/আইকে