তবে কি পাল্টাপাল্টি হামলার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
আবারও মুখোমুখি চিরবৈরী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। রীতিমতো পাল্টাপাল্টি হামলার দ্বারপ্রান্তে দু'দেশ। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে ইরানে হামলার ছক কষছে ওয়াশিংটন। অপরদিকে, তেহরানের হুমকি— এ পদক্ষেপে অস্তিত্ব ঝুঁকিতে পড়বে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি। সব মিলিয়ে বর্তমান আবহ যেন যুদ্ধের দামামা বাজার পূর্বঘণ্টা।
মূলত, ইরানে বিক্ষোভ দমনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরকারকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলো যুক্তরাষ্ট্র। এবার তেহরানকে ভয় দেখাতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরালো করছে ওয়াশিংটন। একাধিক সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, সপ্তাহ ধরে অঞ্চলটিতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, ইরানে মার্কিন হামলা হলে কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে তেহরান? এর সম্ভাব্য উত্তর অবশ্য মিলেছে মাসকয়েক আগেই। নিজেদের পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে গেল জুনে কাতার ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। ইসরায়েলের হামলার পরও চুপ থাকেনি খামেনি প্রশাসন।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা দেশটিকে ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো এবং নাগরিকদের ঝুঁকিতে ফেলবে। কেননা, তেহরানের রেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ৪০ হাজার মার্কিনী এবং তাদের সেনাঘাঁটি।
কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশনসের তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের ১৯টি স্থানে ঘাঁটি গেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বেশি সেনাসদস্য উপস্থিত কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে। এছাড়াও মিসর, ইরাক, জর্ডানের বেইজ থেকেও চলে ইরানের ওপর নজরদারি, হয় নিয়মিত মহড়াও।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেইজ। ৬০ একরের সামরিক স্থাপনাটিতেই ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবারের বাস। মোতায়েন রয়েছে শতাধিক এয়ারক্রাফট। আর বাহরাইনে বিদ্যমান নৌঘাঁটির সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক নেভাল সাপোর্ট পায় যুক্তরাষ্ট্র। এখানেই মোতায়েন রয়েছে মার্কিন নেভির পঞ্চম নৌবহর। গুরুত্বপূর্ণ বিমানবাহী রণতরীও থাকে এখানে।
ভঙ্গুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলেও ধারণা করা হয় সক্ষমতার সবটুকু দিয়ে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের এসব ঘাঁটির যথেষ্ট ক্ষতিসাধন করতে পারবে ইরান। আর সরাসরি মার্কিন মুলুকে হামলার সক্ষমতা দেশটির আছে কিনা, তা নিয়ে অবশ্য রয়েছে সংশয়।
