[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বৈঠকে বসেছেন শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬ ০৯:০৫ এএম

সংগৃহিত

চীনের গ্রেট হল অফ পিপলে বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনের স্থানীয় সময় ২টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৮টা ৩০) এ বৈঠক শুরু হয়।


বৈঠকের আগে গ্রেট হল অফ পিপলের সামনে ট্রাম্পকে অভিবাদন জানায় চীনের শিশুরা। এর আগে লাল গালিচায় হেঁটে চীনের সামরিক বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন ট্রাম্প।

বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আজ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।


তিনি আরও বলেন, ‘আপনার বন্ধু হতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই সফরে তিনি বিশ্বের সেরা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।

‘আজ এখানে শুধু সেরারাই এসেছে আপনাকে সম্মান জানাতে- শি’কে বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প আরও বলেন, কেউ কেউ এই বৈঠককে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্মেলন বলছেন, এবং তিনি এই আলোচনার জন্য মুখিয়ে আছেন।

অন্যদিকে, নিজের বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, ‘আমাদের এই বৈঠকের দিকে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে। বর্তমানে শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তন দ্রুতগতিতে ঘটছে, আর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির ও জটিল হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইসিস ট্র্যাপ এড়িয়ে সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত গড়তে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল করতে পারব? আমাদের দুই দেশ, দুই দেশের জনগণ এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে কি আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব?’

তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো ইতিহাস, বিশ্ব এবং জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এটাই আমাদের সময়ের প্রশ্ন, যার উত্তর আপনাকে ও আমাকে—দুই পরাশক্তির নেতাকে—দিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতেও ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণকে অভিনন্দনও জানান চীনের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আমাদের দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থই বেশি। এক দেশের সাফল্য অন্য দেশের জন্যও সুযোগ তৈরি করে, আর স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরো বিশ্বের জন্যই ভালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহযোগিতা থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই লাভবান হবে, আর সংঘাত হলে উভয়েরই ক্ষতি হবে।’

“আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত। একে অপরের সফলতা ও সমৃদ্ধিতে সহায়তা করা উচিত এবং নতুন যুগে বড় শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের সঠিক পথ খুঁজে বের করা উচিত।”

শেষে শি বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিশাল জাহাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছেন, যাতে ২০২৬ সাল ইতিহাসে এমন এক মাইলফলক হয়ে ওঠে, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

সম্পর্কিত খবর


বৈঠকে বসেছেন শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প


প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬ ০৯:০৫ এএম

সংগৃহিত

চীনের গ্রেট হল অফ পিপলে বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনের স্থানীয় সময় ২টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৮টা ৩০) এ বৈঠক শুরু হয়।


বৈঠকের আগে গ্রেট হল অফ পিপলের সামনে ট্রাম্পকে অভিবাদন জানায় চীনের শিশুরা। এর আগে লাল গালিচায় হেঁটে চীনের সামরিক বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন ট্রাম্প।

বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আজ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।


তিনি আরও বলেন, ‘আপনার বন্ধু হতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই সফরে তিনি বিশ্বের সেরা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।

‘আজ এখানে শুধু সেরারাই এসেছে আপনাকে সম্মান জানাতে- শি’কে বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প আরও বলেন, কেউ কেউ এই বৈঠককে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্মেলন বলছেন, এবং তিনি এই আলোচনার জন্য মুখিয়ে আছেন।

অন্যদিকে, নিজের বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, ‘আমাদের এই বৈঠকের দিকে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে। বর্তমানে শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তন দ্রুতগতিতে ঘটছে, আর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির ও জটিল হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইসিস ট্র্যাপ এড়িয়ে সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত গড়তে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল করতে পারব? আমাদের দুই দেশ, দুই দেশের জনগণ এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে কি আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব?’

তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো ইতিহাস, বিশ্ব এবং জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এটাই আমাদের সময়ের প্রশ্ন, যার উত্তর আপনাকে ও আমাকে—দুই পরাশক্তির নেতাকে—দিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতেও ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণকে অভিনন্দনও জানান চীনের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আমাদের দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থই বেশি। এক দেশের সাফল্য অন্য দেশের জন্যও সুযোগ তৈরি করে, আর স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরো বিশ্বের জন্যই ভালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহযোগিতা থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই লাভবান হবে, আর সংঘাত হলে উভয়েরই ক্ষতি হবে।’

“আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত। একে অপরের সফলতা ও সমৃদ্ধিতে সহায়তা করা উচিত এবং নতুন যুগে বড় শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের সঠিক পথ খুঁজে বের করা উচিত।”

শেষে শি বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিশাল জাহাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছেন, যাতে ২০২৬ সাল ইতিহাসে এমন এক মাইলফলক হয়ে ওঠে, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

সম্পর্কিত খবর