ঢাকা শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬


রংপুরে কিশোর গ্যাং এর বিস্তার এখন শহর ছাড়িয়ে গ্রামে


১২ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:১১

আপডেট:
৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৬:১৭

ছবি প্রতীকী

বয়সটা ১৪ থেকে ২০, কেউ স্কুল-কলেজের ছাত্র, কেউ পাঠ চুকিয়ে ঝড়ে পড়েছে অনেক আগেই, কেউ বেকার আর কেউ শ্রমিক এরকম সমবয়সীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন, ছিনতাই, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়, উচ্চ গতি ও শব্দ করে মোটরসাইকেল চালনা ও অশ্লীল ভিডিও শেয়ার করাই যেন এদের অন্যতম কাজ। রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সরব হয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংস্টারগুলো এখন রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। রংপুরে এমন কোন পাড়া নেই যেখানে কিশোর গ্যাংস্টার গ্রুপ খুঁজে পাওয়া যাবে না। রাতের অন্ধকারে এদের দেখা মেলে অন্যভাবে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে কিশোরদের। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের কৌশলে যুক্ত করা হচ্ছে। এখনই অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীসহ সব মহলকে সচেতন হতে হবে। না হলে নতুন এ প্রজন্ম পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। যা সমাজে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। গোপন সূত্রে জানা যায়, রাস্তায় মেয়েদের একা পেলে উত্ত্যক্ত করা, রাতে শিক্ষার্থীদের বাসার আশপাশে ওৎ পেতে থেকে জানালা দিয়ে টর্স লাইট বা লেজার লাইট মেরে বিরক্ত করা ও স্কুল কলেজের সামনে হর্ন বাজিয়ে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে সবার নজর কাড়াই এদের কাজ। এ ছাড়া উঠতি বয়সেই ছিনতাই, মাদক কারবার ও মহল্লায় মাস্তানিতে জড়িয়ে পড়ছে তারা। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টাও করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে গ্যাং কালচারের নামে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে উঠতি বয়সী তরুন-কিশোররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কেউ কেউ এলাকায় টিকে থাকতে এসব গ্যাংয়ে যুক্ত হয়। আবার কেউ কেউ এলাকায় দাপট দেখাতে যুক্ত হচ্ছে। দুটি গ্যাংই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। নিয়ন্ত্রণের ধরন কী, জানতে চাইলে এসব শিক্ষার্থী জানান, কখনো একটি দলের পাল্লা ভারী থাকে। যেই দলের পাল্লা ভারী থাকে সেই দলের ছেলেরা তখন বড় ভাই। তারাই খেলার মাঠের নিয়ন্ত্রণ, হাট-বাজার, গ্রাম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। রাস্তায় রোমিওগিরিও করে। তখন আরেক দল নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে এবং এ থেকে মারামারি ও বিশৃঙ্খলা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, অভিভাবকদের অমনোযোগিতায় বাড়ছে এসব কর্মকাণ্ড। ফলে বাবা-মা বা পরিবারের কেউই টের পাচ্ছেন না তাদের আদরের সন্তানেরা আজ কতটা আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। আমরা বিভিন্ন স্থানে আমাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।