‘স্ত্রীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে’ যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের চৌগাছায় ‘স্ত্রীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে’ রেখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা জুয়েল রানাকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চৌগাছা উপজেলার মুক্তদহ গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জুয়েল রানা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ পাতিবিলা ইউনিয়নের যুব লীগের সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি এলাকায় ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
নিহতের স্ত্রী মায়া বেগমের দাবি, তাকে বাজারে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে তার স্বামীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকারা চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।
তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ। তার দাবি, স্ত্রীকে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে মুক্তদহ গ্রামের মোড়ে আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে পরিচিত জুয়েল রানার সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের বিএনপি অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইউসুফ, কাশেম, নজরুল মেম্বারের ছেলে বাবু ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে জুয়েল রানার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা জুয়েলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। ফের সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার ওপর একই সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর হত্যাকারীরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী। তারা এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও লুটপাট করে খায়। তাদের এসব অপকর্মে বাধা দেওয়ায় তার স্বামীর ওপর হামলাকারীরা ক্ষুব্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের মোড়ে চায়ের দোকানে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাড়ির সামনে এসে তার স্বামীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। স্বামীকে উদ্ধার করে ভ্যানে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাজারের মোড়ে নামিয়ে নেয়। এ সময় তাকে (স্ত্রী) দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে তার স্বামীকে (জুয়েল রানা) ফের কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে স্বামীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেছে। হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগের ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছেন।
মায়া বেগম আরও বলেন, আমার স্বামী পানি চেয়েছে। আমি পানি দিতে পারিনি। হামলাকারী বাবু আমার স্বামীর মুখে প্রস্রাব করে দিয়েছে। আমার স্বামীর পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে। আমি স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোবাশ্বের হোসেন বলেন, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জরুরি বিভাগে জুয়েল নামে একজন রোগীকে মৃত অবস্থায় পাই। তার মাথা ও শারীরের বিভিন্ন স্থানে অনেক আঘাত ছিল। রোগীর মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চৌগাছা থানার ওসি মো. মামুনুর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত জুয়েল রানা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হামলাকারীরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ সঠিক নয়। হামলার পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছে স্ত্রী। বেঁধে রাখার বিষয়টি রঙ লাগিয়ে বলতে পারে। মুমূর্ষু জুয়েলের পানির পরিবর্তে মুখে প্রস্রাব করার বিষয়টিও সঠিক নয়।
