ঢাকা শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬


উত্তপ্ত হতে পারে রাজপথ, চলতি মাস থেকেই আন্দোলনের প্রস্তুতি বিএনপির!


২ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:৩৯

আপডেট:
৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:০৫

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর চুপসে যাওয়া বিরোধী রাজনীতি ফের সক্রিয় হচ্ছে। হঠাৎ করে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি । নীরবতা ও অভ্যন্তরীণ অভিমান ভেঙে আস্তে আস্তে সোচ্চার হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও। জানা গেছে, চলতি মাস জুড়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নানা কর্মসূচি পালন করবে। ৫ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন না হলে এক দফা আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। চলতি মাসেই রাজপথ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যেকোনো আন্দোলন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই সুপ্রিমকোর্টের সামনের সড়ক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। হঠাৎ করেই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেখানে অবস্থান নেয় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। আসতে আসতে শতশত নেতাকর্মীরা জড়ো হয় সেখানে। খালেদা জিয়ার মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিলেও পুলিশি আ্যকশনে পিছু সরে যেতে হয় তাদের। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৫শ’জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল এক দফা আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন না হলে সরকার পতনের লক্ষ্যে এক দফা আন্দোলন হবে বলে। যদি দেখি ৫ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হয়নি, তাহলে বুঝতে হবে শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপে খালেদার মুক্তি হয়নি। ওইদিন এদেশে শুধু এক দফার আন্দোলন হবে। তারা ক্ষমতায় আসার পরে প্রায় ৮ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে এবং এই বার ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। পেঁয়াজ ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়ায় আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন তিনি।

ডিসেম্বর মাসেই সরকার পতন আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের অহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সবকিছুর একটা সীমা আছে। অত্যাচার করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার একটা সীমা আছে। আপনারা সেই সীমা পার করছেন এবং সেটা শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। সবকিছু পাল্টে যাচ্ছে, হিসাব বদলে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ সমস্ত মানুষ রাজপথে নেমে আসবে এবং রাজপথ আমাদের দখলে চলে আসবে। আমরা সে জন্য প্রস্তুত হতে চাই এবং এই বিজয়ের মাসে বিদায় ঘণ্টা বাজাতে চাই।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ‘নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তারা বিচার মানে না, আদালত মানে না। আন্দোলনের নামে যদি তারা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে দাতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে। আমরা প্রস্তুত আছি। এর জন্য যখন যা প্রয়োজন, সেটা করা হবে৷বিএনপি যদি রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করে, তাহলে আমরা তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবো। কিন্তু তারা যদি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে সমোচিত জবাব দেওয়া হবে।'