ঢাকা রবিবার, ২৫শে জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ই মাঘ ১৪৩২


শেখ হাসিনাসহ ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন কর্নেল হাসিনুর


২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:১০

সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের আমলে ডিজিএফআইয়ের জেআইসি সেলে গুম নির্যাতনের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান।

 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর বিচারিক প্যানেলে সাক্ষ্য দেন তিনি। দেড় বছর জেআইসি সেলে গুম করে নির্যাতন করা হয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমানকে। 

 

জবানবন্দিতে হাসিনুর রহমান জানান ২০১৪ সালের নির্বাচন, সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ, আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে গুম করা হয়। 

 

এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

 

পলাতক ১০ আসামির পাঁচজনই ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিভিন্ন মেয়াদে। এর মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

 

বাকিরা হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

 

প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের সময়কাল হলো ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়টায় গুম হন ২৬ জন। জেআইসি সেলে গুমের পর আটকে রেখে তাদের নির্যাতনের বীভৎসতা তুলে ধরেছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ৭ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানিতে এসব বর্ণনা করেন তিনি। যদিও ৯ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার তিন আসামির অব্যাহতি চান আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। চারটি কারণ (গ্রাউন্ড) দেখিয়ে এ অব্যাহতি চাওয়া হয়।দুলুর শুনানি শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হাসান ইমাম, আমির হোসেনসহ অন্যরা।

 

গুমের মামলায় সর্বপ্রথম গত বছরের ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা তিন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ৮ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ বা অভিযোগ আমলে নেন আদালত।