ঢাকা বুধবার, ১৪ই জানুয়ারী ২০২৬, ২রা মাঘ ১৪৩২


যুক্তরাষ্ট্র নয়, ডেনমার্ককেই বেছে নেবে গ্রিনল্যান্ড: প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন


১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ০৮:৪৫

সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন করে আলোচনায়। তবে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র নয়, প্রয়োজনে ডেনমার্ককেই বেছে নেবে গ্রিনল্যান্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে এমন অবস্থান জানালেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়। 

 

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স–ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, এখনই যদি সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নয়, ডেনমার্ককেই বেছে নেবে গ্রিনল্যান্ড।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আবারও দাবি করেন, রাশিয়া ও চীনের হুমকি মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। হোয়াইট হাউস দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিলেও শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি।

 

ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য দেশ। প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হলে তা ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটের অবসান ডেকে আনতে পারে।

 

বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি হলেও উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নজরদারিতে এর গুরুত্ব অনেক।

 

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে পিটুফিক ঘাঁটিতে বর্তমানে শতাধিক মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এই ঘাঁটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর সুযোগও রয়েছে।

 

তবে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান—গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যেতে চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের শাসনেও নয়। 

 

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও ন্যাটোর সম্পর্ক—সব মিলিয়ে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকরা।