মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা কি তবে কূটনৈতিক যুদ্ধে রূপ নিলো?
জাতীয় নিরাপত্তার নামে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা এখন রীতিমতো কূটনৈতিক পাল্টা-যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের জবাবে মালি ও বুরকিনা ফাসো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ‘পারস্পরিকতার নীতি’ সামনে এনে আফ্রিকান দেশগুলো স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, ভিসা ইস্যুতে ওয়াশিংটনের একতরফা সিদ্ধান্ত আর বিনা জবাবে সহ্য করবে না তারা।
মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার আরও দুটি দেশ মালি ও বুরকিনা ফাসো। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশ দুটি।
চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মালি ও বুরকিনা ফাসোর নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত।
নতুন নির্দেশনায় ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মালি ও বুরকিনা ফাসো ছাড়াও তালিকায় রয়েছে লাওস, নাইজার, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভিসাধারীদেরও।
এই ঘটনার জেরেই চটেছে আফ্রিকার দেশগুলো। মালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পারস্পরিকতার নীতির ভিত্তিতে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও মালির নাগরিকদের ওপর আরোপিত একই শর্ত কার্যকর করা হবে। বুরকিনা ফাসোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারামোকো জ্যাঁ-মারি ত্রাওরেও একই যুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।
এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় আর এক আফ্রিকার দেশ নাইজার। তিনটি সামরিক শাসিত দেশ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গঠন করে আলাইয়েন্স অব সাহেল স্টেটস। এরই ধারাবাহিকতায় চাদও গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয়, যদিও এই নিয়মের বাইরে রয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে আফ্রিকা–যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
