ঢাকা রবিবার, ১৭ই অক্টোবর ২০২১, ৩রা কার্তিক ১৪২৮


রুপগঞ্জে সাবেক মেয়রের দূর্নীতিতে ভোগান্তীতে পৌরবাসী


২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৮:০৩

ফাইল ছবি

মেয়রের দূর্নীতির কারণে ভূগছেন পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি ভূগছেন বর্তমান মেয়রও। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে রাজধানীর উপকণ্ঠ নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা সাধারণ মানুষরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পৌরসভার প্রথম মেয়র মজিবুর রহমান নিয়মনীতির তোয়াক্কা ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর প্রজেক্ট অনুমোদনের কারণে তারা জমিও বিক্রি করতে পারেনা আবার জমির প্রকৃত মূল্যও পায়না। ১৫ বছর ধরে সেখানে জমির মূল্যও বাড়েনি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, ২০০৩ সালে কাঞ্চন পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন মজিবুর রহমান। রাজধানীর উপকণ্ঠ হওয়ায় সেদিকে নজরপড়ে ডেভেলোপার কোম্পানিগুলোর। কোনধরনের নিয়মনীতি না মেনে মেয়র কোম্পানিগুলোর আবাসন প্রজেক্টগুলোর অনুমোদন দিয়ে দেন। অনুমোদন পাওয়ার পর কোম্পানিগুলো পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় তাদের প্রজেক্টে বালু ফেলার কাজ শুরু করে। প্রজেক্ট ঘেঁষা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি গুলোও এক প্রকার অকেজো হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন কোম্পানি তাদের প্রজেক্ট স্থিতিবস্থা থাকার বিপাকে পড়েন এলাকাবাসী। প্রয়োজনে তাদের জমি বিক্রিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রজেক্ট উন্নয়ন না হওয়ায় কেউ আবার জমিও কিনতে চায়না। সে কারণে গত ১৫ বছর ধরে জমির মূল্যও বাড়েনি। এমন অবস্থায় তারা নানা সমস্যায় পড়েছে।


ভুক্তভোগীরা জানান, নানা প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে হয় তাদের। এ এলাকায় একবোরে জমি কেনা বেচা প্রায় বন্ধ। মেয়রের এনওসি নিয়ে আবাসন কোম্পানিগুলো এলাকাবাসীর জমিকে এমন অবস্থায় করে ফেলেছে অন্য কোন লোক এসে জমি কিনতে চায়না। আবার আবাসন কোম্পানিগুলোও জমি নিতে চায়না। নিতে চাইলেও বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দাম দিতে চায়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের সমস্ত এলাকার জমির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে শুধু কাঞ্চন পৌরসভার জমির মূল্য বাড়েনি। এর কারন প্রথম মেয়রের দূর্নীতি আর আবাসন কোম্পানিগুলোর তাদের প্রজেক্টেও উন্নয়ন না করা।

ক্ষুব্ধ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, শুধুমাত্র এই দুর্নীতির কারণে মুজিবর রহমান দ্বিতীয়বার নির্বাচনে তার জামানত হারিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে মুজিবর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে পাওয়া যায়নি।

তবে বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, এটি প্রথম মেয়রের কাজ। তার কারণে আমরাও ভোগান্তীর শিকার।