৯ মাসেও কাটেনি ভিসা জট
যাত্রী সংকটে স্থবির বেনাপোল, ধুঁকছে সীমান্ত অর্থনীতি
ভোর হতেই যেখানে শুরু হতো হাজারো মানুষের পদচারণা, ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ সারি আর ট্রাভেল এজেন্টদের ব্যস্ততা, সেই দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বেনাপোল এখন অনেকটাই নীরব। ভারতের ভ্রমণ ভিসায় আরোপিত বিধিনিষেধ দীর্ঘ ৯ মাসেও পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়ায় যাত্রী সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভারতীয় ভিসা কার্যক্রমে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সীমিত পরিসরে মেডিকেল ভিসা চালু থাকলেও পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা স্বাভাবিক না হওয়ায় যাত্রী চলাচল আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
সবশেষ শুক্রবার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় যাতায়াত করেছেন মাত্র ১৪৫০ জন যাত্রী। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ৭২৫ জন, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী
যাত্রী বাংলাদেশের প্রবেশ করেছে ৫৭৪ জন
ভারতীয় নাগরিক ১৫০জন এবং অন্যান্য দেশের নাগরিক ছিলেন ১ জন।
যাত্রী কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা। মানি এক্সচেঞ্জ, ট্রাভেল এজেন্সি ও আবাসিক হোটেলগুলোতে এখন অনেকটা অচলাবস্থা বিরাজ করছে। দৈনিক পরিচালন ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের কথাও ভাবছে।
একই চিত্র পরিবহন খাতেও। ঢাকা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসগুলো পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় অনেক ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে চালক, হেলপার ও কাউন্টারকর্মীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
টার্মিনালসংলগ্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম সংকটে। ফুটপাতের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সময়মতো ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ ভ্রমণ ভিসা কার্যক্রমও এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
এ বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভিসা জটিলতার কারণে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। তবে সীমিত যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক বলেন, “ভ্রমণ ভিসা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দুই দেশের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।”
