ভারত থেকে ফিরল ২১ বাংলাদেশি শিশু-কিশোর
বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ভারতে আটকে থাকা ২১ জন বাংলাদেশি শিশু-কিশোর ও তরুণীকে দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ফেরত আসা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলে তাদের বিভিন্ন সেফ হোম ও কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়। দুই দেশের সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো হয়েছে।
ফেরত আসাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু-কিশোর। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরিবারের সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছিল। এ ঘটনায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বাবা-মাকে আটক করে কলকাতার সেন্ট্রাল জেলে পাঠায়। পরে শিশু-কিশোরদের মুর্শিদাবাদ কাজী নজরুল হোম, কৃষ্ণনগর হোম, বসিরহাট হোম, বারাসাত কিশোরালয়সহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানার কাছে হস্তান্তর করে। থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শিশু-কিশোরদের নিরাপদ আশ্রয় ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার তুরাগের জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (১৮), নড়াইলের তানহা খানম (১৩), সাতক্ষীরার সিয়াম শেখ (১৫) ও মাহি শেখ (১২), নওগাঁর অন্তু শাহা (১৪), খুলনার তামিম মোল্লা (৯) ও ইয়াছিন শেখ (৮), যশোরের তাসকিয়া সুলতানা (৭)সহ বিভিন্ন জেলার মোট ২১ জন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে যান। সেখানে প্রথমে কলকাতা এবং পরে মহারাষ্ট্রের ওরঙ্গাবাদে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই স্থানীয় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর তাকে মহারাষ্ট্রের একটি আশ্রমে রাখা হয়।
অন্যদিকে, বাকি শিশু-কিশোররা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানকালে আটক হয়। প্রায় ছয় মাস বিভিন্ন হোমে থাকার পর অবশেষে তারা দেশে ফিরতে পারল।
