[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ট্রাফিক মামলায় এআই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করবে

প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬ ১৪:০৫ পিএম

ট্রাফিক মামলায় এআই প্রযুক্তি (প্রতীকী ছবি)

যে পদ্ধতি নিয়ে ডিএমপির এত কড়াকড়ি, সেই প্রযুক্তি আসলে কাজ করে কীভাবে? রাজধানীর ট্রাফিক বিভাগ (তেজগাঁও) উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহযোগিতায় এই প্রযুক্তি সংযোজন করেছে।’

রাজধানীর ট্রাফিক সিস্টেমে এআই-নির্ভর নতুন প্রযুক্তি চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রতিটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বাতির সঙ্গে সংযোজন করা হয়েছে এই প্রযুক্তি। যারাই ওই সিগন্যালগুলোতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অটোমেটিক মামলার নোটিশ চলে যাচ্ছে মোবাইল ফোনে। ভঙ্গ করা আইন অনুসারে জরিমানা কত, সেটিও নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। 

রবিবার (৩ মে) বিকালে ডিএমপি মিডিয়া থেকে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়ে বলা হয়, মোবাইলে নোটিশ পাওয়ার পরও মামলার জরিমানা অনেকে পরিশোধ করছেন না। যারা পরিশোধ করছেন না তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। 

 

যে পদ্ধতি নিয়ে ডিএমপির এত কড়াকড়ি, সেই প্রযুক্তি আসলে কাজ করে কীভাবে? রাজধানীর ট্রাফিক বিভাগ (তেজগাঁও) উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহযোগিতায় এই প্রযুক্তি সংযোজন করেছে।’

 

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ডিএমপির সদর দপ্তরে ৯টি সফটওয়্যার সিস্টেম চালু করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সেগুলোর মধ্যে এই ‘এআই বেইসড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার’ একটি। সেদিন জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে এই এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেমটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সড়কে চালু করা হয়েছে, যেখানে ২৫টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এটি পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে ১১ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমনকি নাগরিকদের পাঠানো ভিডিও যাচাই করেও আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

 

সেদিন অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বর্তমানে এই সিস্টেম ক্যামেরার মাধ্যমে পাঁচ ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। ভবিষ্যতে এতে আরও ফিচার যুক্ত করা হবে। ডিএমপির আজকের বিবৃতিতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, মূলত বিভিন্ন সিগন্যাল বা ক্রসিংয়ে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য; স্টপ লাইন অতিক্রম; উল্টো রাস্তায় চলাচল; যত্রতত্র যাত্রী তুলে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ পার্কিং ও লেফট লেন ব্লক ইত্যাদি আইন ভঙ্গের কারণে এআইয়ের সাহায্যে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা শুরু হয়েছে।

এরইমধ্যে পরীক্ষামূলক সড়কের ক্রসিংগুলোতে সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতাও কমেছে বলেও দাবি করেন উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘যেই গাড়িই সিগন্যাল অমান্য করছে সিগন্যাল বাতির সঙ্গে ওই প্রযুক্তি সঙ্গে স্বঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা গাড়িগুলো ট্র্যাক করে ওই গাড়ির মালিককে তথ্য দিচ্ছে পাশাপাশি এই আইন ভঙ্গ করে কত জরিমানা সেটি পৌঁছে দিচ্ছে।’

এটি একটি অটোমেটেড সিস্টেম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি কার্যকরের ফলে একদিকে যেমন ক্রসিংয়ে আইন ভঙ্গ করার যে প্রবণতা সেটি কমে আসছে। পাশাপাশি জরিমানা না দিলে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হতে পারে সেটিও জানিয়ে দিচ্ছে।’

সম্পর্কিত খবর


ট্রাফিক মামলায় এআই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করবে


প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬ ১৪:০৫ পিএম

ট্রাফিক মামলায় এআই প্রযুক্তি (প্রতীকী ছবি)

যে পদ্ধতি নিয়ে ডিএমপির এত কড়াকড়ি, সেই প্রযুক্তি আসলে কাজ করে কীভাবে? রাজধানীর ট্রাফিক বিভাগ (তেজগাঁও) উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহযোগিতায় এই প্রযুক্তি সংযোজন করেছে।’

রাজধানীর ট্রাফিক সিস্টেমে এআই-নির্ভর নতুন প্রযুক্তি চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রতিটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বাতির সঙ্গে সংযোজন করা হয়েছে এই প্রযুক্তি। যারাই ওই সিগন্যালগুলোতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অটোমেটিক মামলার নোটিশ চলে যাচ্ছে মোবাইল ফোনে। ভঙ্গ করা আইন অনুসারে জরিমানা কত, সেটিও নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। 

রবিবার (৩ মে) বিকালে ডিএমপি মিডিয়া থেকে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়ে বলা হয়, মোবাইলে নোটিশ পাওয়ার পরও মামলার জরিমানা অনেকে পরিশোধ করছেন না। যারা পরিশোধ করছেন না তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। 

 

যে পদ্ধতি নিয়ে ডিএমপির এত কড়াকড়ি, সেই প্রযুক্তি আসলে কাজ করে কীভাবে? রাজধানীর ট্রাফিক বিভাগ (তেজগাঁও) উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহযোগিতায় এই প্রযুক্তি সংযোজন করেছে।’

 

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ডিএমপির সদর দপ্তরে ৯টি সফটওয়্যার সিস্টেম চালু করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সেগুলোর মধ্যে এই ‘এআই বেইসড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার’ একটি। সেদিন জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে এই এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেমটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সড়কে চালু করা হয়েছে, যেখানে ২৫টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এটি পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে ১১ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমনকি নাগরিকদের পাঠানো ভিডিও যাচাই করেও আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

 

সেদিন অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বর্তমানে এই সিস্টেম ক্যামেরার মাধ্যমে পাঁচ ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। ভবিষ্যতে এতে আরও ফিচার যুক্ত করা হবে। ডিএমপির আজকের বিবৃতিতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, মূলত বিভিন্ন সিগন্যাল বা ক্রসিংয়ে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য; স্টপ লাইন অতিক্রম; উল্টো রাস্তায় চলাচল; যত্রতত্র যাত্রী তুলে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ পার্কিং ও লেফট লেন ব্লক ইত্যাদি আইন ভঙ্গের কারণে এআইয়ের সাহায্যে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা শুরু হয়েছে।

এরইমধ্যে পরীক্ষামূলক সড়কের ক্রসিংগুলোতে সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতাও কমেছে বলেও দাবি করেন উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘যেই গাড়িই সিগন্যাল অমান্য করছে সিগন্যাল বাতির সঙ্গে ওই প্রযুক্তি সঙ্গে স্বঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা গাড়িগুলো ট্র্যাক করে ওই গাড়ির মালিককে তথ্য দিচ্ছে পাশাপাশি এই আইন ভঙ্গ করে কত জরিমানা সেটি পৌঁছে দিচ্ছে।’

এটি একটি অটোমেটেড সিস্টেম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি কার্যকরের ফলে একদিকে যেমন ক্রসিংয়ে আইন ভঙ্গ করার যে প্রবণতা সেটি কমে আসছে। পাশাপাশি জরিমানা না দিলে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হতে পারে সেটিও জানিয়ে দিচ্ছে।’

সম্পর্কিত খবর