ঢাকা বুধবার, ৫ই অক্টোবর ২০২২, ২১শে আশ্বিন ১৪২৯

সবুজের তৈরী করা ড্রোনে বাজিমাত


৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:০৪

ছবি- সংগৃহিত

জমিতে কীটনাশক ওষুধ স্প্রেসহ শুকনো রাসায়নিক সার ছিটানোর জন্য চালকবিহীন ড্রোন তৈরি করেছেন ফুলবাড়ীর মেধাবী ছাত্র সবুজ সরদার। প্রতিদিন ড্রোন দেখতে ভিড় করছে তার বাড়িতে। এর আগে চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী সবুজ।

সবুজ ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের পলি শিবনগর মহেশপুর গ্রামের রিকশাভ্যান চালক এনামুল সরদারের ছেলে। সবুজ সরদার ২০২১ সালে ফুলবাড়ী কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে বর্তমানে দিনাজপুর শহরের উত্তরণ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে তড়িৎ প্রকৌশল বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী।


সবুজের স্বপ্ন ছিল উড়োজাহাজ তৈরি করার। মাত্র ৪৫ দিনে চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। উড়ো জাহাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পর এবার বানিয়েছেন চালকবিহীন ড্রোন। যা দিয়ে জমিতে কীটনাশক ওষুধ ষ্প্রে করাসহ শুকনো রাসায়নিক সার ছিটানো যায়। তিন মাসে একটি ড্রোন তৈরি। ড্রোন দিয়ে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করাসহ শুকনো রাসায়নিক সার ছিটানো যাচ্ছে।


সরেজমিনে পলি শিবনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সবুজের তৈরি চালকবিহীন ড্রোন জমিতে কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করছে- ড্রোনের এমন কর্মকাণ্ড দেখতে এলাকাবাসীর ভিড় জমেছে সেখানে।

পলি শিবনগর গ্রামের কলেজ শিক্ষক ইউসুফ আলী বলেন, সবুজ লেখাপড়ার পাশাপাশি পাঠকপাড়া বাজারে মোবাইল মেকানিকের কাজও করেন। ইতোমধ্যে সবুজ চালক বিহীন উড়োজাহাজ এবং জমিতে ওষুধ ও সার ছিটানো ড্রোন তৈরি করে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।


ইউপি সদস্য শাহিন সরদার বলেন, সবুজের কাজে গ্রামবাসী গর্বিত। সবুজের জন্য ইতোমধ্যেই গ্রামের নাম দেশবাসীর কাছে পরিচিত হয়েছে।

সবুজের বাবা একরামুল সরদার বলেন, আগে সবুজের কাজ দেখে বিরক্ত হতেন। যেখানে সংসার চলে না, সেখানে অহেতুক টাকা নষ্ট করে যন্ত্রপাতি তৈরি করার কি দরকার! কিন্তু ছেলেকে থামানো যায়নি। একের পর এক নতুন কিছু তৈরি করেই চলেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।

সবুজ সরদার বলেন, তিন মাসে তৈরিকৃত ড্রোন এখন আকাশে উড়ছে। জমিতে কীটনাশক ষ্প্রে ও শুকনো সার ছিটানোর কাজ করছে। ড্রোনটি দুই লিটার তরল পদার্থ নিয়ে উড়তে এবং জমিতে স্প্রে করতে পারে। একবারের চার্জে ড্রোনটি ত্রিশ মিনিট আকাশে উড়ছে। রিমোট কন্ট্রোল ও জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) নিয়ন্ত্রিত ড্রোনটি দূর থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ড্রোনটি ২০ থেকে ২৫ লিটার তরল পদার্থ বহন ক্ষমতা সম্পন্ন তৈরি করতে খরচ পড়বে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এতে ১০ বিঘা জমিতে স্প্রে করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উদ্ভাবন করতে প্রয়োজন অর্থ। সরকারি সহায়তা পেলে অনেক কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।