ঢাকা বুধবার, ১৭ই এপ্রিল ২০২৪, ৫ই বৈশাখ ১৪৩১


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত!


১ এপ্রিল ২০২৪ ২১:৪৫

ছবি : নতুন সময়

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। পিছিয়ে নেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। আগামী ৮ মে এই উপজেলার নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারাও। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক সুনন্দন দাস রতন ও উপজেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও দেওপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দীন সোহেল।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল সরকার, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অন্যদিকে বর্তমান সরকারের অধীনে সব নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় থাকা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাজেদুর রহমান খান মার্কনী।

এছাড়া চেয়ারম্যান পদে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন রাজশাহী জেলা (পশ্চিম) জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাজশাহী জেলা (পশ্চিম) জামায়াতের সহ-সেক্রেটারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান। তিনি ২০১৪ সালে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে ঘোষণায় অনড় থাকায় উৎফুল্ল ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপি জামায়াতের নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় হওয়ায় কিছুটা চিন্তায় পড়েছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্র্রার্থীরা।

বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হলে তাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা। এছাড়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, রবিউল আলম ও বেলাল উদ্দীন সোহেল মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। নিজেদের পক্ষে তারা নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।

এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক যুববিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান খান মার্কনী বলেন, মনে করেছিলাম কোনো নির্বাচন করবো না। বারবার নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপি সরে থাকায় বিএনপির তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ জন্য চলতি রমজানে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথে সাক্ষাত ও ইফতারিতে অংশ নিচ্ছি।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিমত, আওয়ামী লীগকে আর ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া যাবে না। নির্বাচনে হার জিতে থাকবেই সেটা বড় বিষয় নয়, আমার মূল উদ্দেশ্যে বিএনপি কর্মীদের পাশে থেকে তাদের মনোবল বাড়ানো।

তিনি বলেন, দলের কেন্দ্রীয় বা জেলার নেতারা কে কি ভাবলো-বললো, সেদিকের চেয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দিতে হবে। এভাবে বছরের পর বছর নির্বাচন থেকে দূরে থাকলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হারিয়ে যাবে।

অন্যদিকে জামায়তের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলার (পশ্চিম) আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনের কিংবা বর্জনের কোনো নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি। যেহেতু এটা স্থানীয় নির্বাচন, তাই স্থানীয়ভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, প্রচারণা চালিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছি।

কারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা শঙ্কিত যে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্টভাবে হয়নি।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা (পশ্চিম) জামায়াতে সহ-সেক্রেটারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান জানান, ২০১৪ সালে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলাম। এবারো ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।

নতুনসময়/এএম


নির্বাচন, উপজেলা, দৌড়ঝাপ, প্রার্থী, বিএনপি, জামায়াত