ঢাকা বুধবার, ৫ই অক্টোবর ২০২২, ২১শে আশ্বিন ১৪২৯


গণজাগরণ মঞ্চের সেই লাকীর বর্তমান দিনকাল


১১ এপ্রিল ২০২১ ১৫:৫৪

ফাইল ছবি

সময়টা ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়ে নির্যাতন, হত্যা ও গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন সাজা হয় জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার। এই রায়ে অসন্তুষ্ট তরুণ প্রজন্ম ক্ষোভে জ্বলে ওঠে। মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি তাদের। ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে জ্বলে ওঠে প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ। তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি জেগে ওঠে দেশের সর স্তরের মানুষ। শাহবাগ চত্বরে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। আরব বসন্তের আদলে এ স্ফুলিঙ্গের নাম দেওয়া হয় বাংলা বসন্ত।

সেই সময়ে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের স্লোগানকন্যা খেতাব পাওয়া লাকী আক্তার এখন কোথায় কেমন আছেন? বামধারার রাজনীতির এই কর্মী-নেতার রাজনৈতিক তৎপরতাও বেশ কিছু দিন ধরে তেমন একটা চোখে পড়ছে না।

ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত লাকী আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি লাকী বিয়ে করেছেন একই দলের সক্রিয় আরেক কর্মী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজীবকে। তাদের ঘর আলো করে আছে এক কন্যাসন্তান।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদবিরোধী গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া ইমরান এইচ সরকারও দীর্ঘদিন আলোচনায় নেই। সাম্প্রতিক দেশের বিভিন্ন আলোচিত-আলোড়িত কোনো ঘটনাতেই তাদের কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া কিংবা মতামত নেই। কেমন আছেন ইমরান?

গণজাগরণ মঞ্চের একসময়ের সামনের দুই নেতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। অনেক চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে। তবে ফোনে পাওয়া গেছে লাকী আক্তারকে।

বর্তমান অবস্থান ও কাজ নিয়ে কথা হয়। তিনি বলেন, আমি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতির দায়িত্ব শেষ করে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছি। এছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নারী সেলের কেন্দ্রী সদস্য হিসেবে যুক্ত আছি। নারী আন্দোলন ও কৃষক আন্দোলনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি। রাজনীতির বাহিরে আমি একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে রিসার্সের সঙ্গে যুক্ত আছি। এছাড়া আমি অনুবাদের কাজ করছি।

গণজাগরণ মঞ্চের বিষয়ে তিনি জানান, গণজাগরণ মঞ্চের আলাদা কাজ নেই। গণজাগরণ মঞ্চ একটা নির্দিষ্ট ইস্যুতে বিভিন্নে শ্রেনী পেশার মানুষ, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণ আন্দোলন ছিলো। সময়ের প্রয়োজনে আমরা একভূত হয়েছি। কাজ করেছি। কাজের ধারাবাহিতকা ছিলো। সেই কাজের ধারাবাহিকতায় দেশের রাজনীতির অনেক গুলো পরিবর্তনের অবস্থাও আমরা দেখেছি। আমরা এই আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের প্রায় ২২ জনের মতো সহযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তারপরও কিন্তু আমাদের লড়াই থেকে পিছ পা হইনি।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি গণজাগরণ মঞ্চ হুট করে কোনো আন্দোলন না। এটার একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে এবং তার একটি পটভূমি আছে। সূতরাং কোনো ট্রায়ালের বিরুদ্ধে বা বর্তমান সময়ে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা মনে করি নিশ্চই সেই সময়ে যারা যুক্ত ছিলেন। তারা সেই সময়ে নিজ নিজ সংগঠনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিশ্চিই এরবিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন বলে বিশ্বাস করি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় হেফাজত তাণ্ডব চালিয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এমনকি কোনো ধরনের কর্মসূচিও দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাকী আক্তার বলেন, ‘এই ধরনের কোনো বিষয়ে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচি ছিল না।

তবে তাদের পার্টির (ছাত্র ইউনিয়ন) পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে লাকী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেছে। সহায়তা করার চেষ্টা করেছে। হেফাজতের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে। ফলে আমাদের যে বক্তব্য তা মিডিয়ায় এসেছে।’

লাকী আক্তার তার রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি গণজাগরণ মঞ্চ ও আরও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন।

বাম সংগঠনের নেত্রী বলেন, ‘আমরা গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গেও ছিলাম, আবার আমাদের একটি রাজনৈতিক দলও আছে। আমাদের আলাদা কাজ আছে। কিছু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছি। তাদের আলাদা কাজ আছে।’ কাজেই লাকী আকতার একেবারে নীরব তা বলা যাবে না। গণজাগরণের কোনো কর্মসূচি না থাকলেও লাকী আকতার অন্যান্য বলয়ে নিজেদের কাজ করে চলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই সেই সময়ে বিভিন্ন রাজণৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলো। তারা সবাই নিজ নিজ সংগঠন এবং কাজের সঙ্গে যুক্ত আছে। কাজ আছে। আমি ছাত্র নিয়নের পক্ষ থেকেই গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।