ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১লা ফাল্গুন ১৪৩২


বাসা থেকে মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার


১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৬

সংগৃহীত

ফেনীতে ভাড়া বাসা থেকে রোকসানা আক্তার লিপি (৩১) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের মোকছেদুর রহমান সড়কের খালেক ম্যানশনের একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

মৃত রোকসানা আক্তার লিপি জেলার সোনাগাজী উপজেলার কাছিম বাজার এলাকার আবুল বশর বাদশা মিয়ার মেয়ে এবং আমেরিকা প্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী। তিনি ফেনী পৌরসভার ১১নম্বর ওয়ার্ড নারী দলের আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন। 

 

নিহতের স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন লিপি। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে তার ১৩ বছর বয়সি কন্যাসন্তানকে মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। বুধবার স্বজনরা তার মোবাইলে কল করে সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পান। পরে পাশের ভবনের জানালা দিয়ে দেখা যায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিপির লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

মৃতের ছোট বোন পিংকি বলেন, আমিও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতাম। পাঁচ দিন আগে আমি নিজের বাসায় চলে আসি। তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গেও কোনো ঝামেলা ছিল না। কেন তিনি এমন করলেন কিছুই বুঝতে পারছি না।

 

জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর তানজিলা বলেন, লিপির রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা আমার হাত ধরেই। সব কর্মসূচিতে সে আমার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল। সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে তার সঙ্গে কথা হয়। এরপর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় আর যোগাযোগ হয়নি। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড কিছুই নিশ্চিত না। যদি আত্মহত্যাও হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে নিশ্চয় কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। আমি প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

 

ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বলেন, বাসার প্রধান দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বাধা ওড়নায় তার লাশ ঝুলছিল। গলার পাশে ডান হাতের আঙুল আটকে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁস লাগার সময় বাঁচার চেষ্টা করছিলেন তিনি। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা হবে।