তারেক রহমান এবং জামায়াতকে জড়িয়ে ছড়াচ্ছে ড. কামাল হোসেনের ভুয়া বক্তব্য
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। আরেকটি দাবিতে বলা হচ্ছে, প্রবীণ এই আইনজীবী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে প্রতারক আখ্যা দিয়েছেন। তবে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, এ ধরনের কোনো বক্তব্য ড. কামাল হোসেন দেননি।
গত ৩১ জানুয়ারি “দৈনিক আজকের কণ্ঠ” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ড. কামাল হোসেনের ছবি সংযুক্ত একটি ফটো কার্ড পোস্ট করা হয়। ফটো কার্ডের ভেতরে লেখা, “বিএনপি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।” তার নিচে লেখা, “তারেক রহমানকে প্রতারক আখ্যা দিলেন ড. কামাল হোসেন।” ফটো কার্ডের উপরে ডানে তারিখ হিসেবে “৩১ জানুয়ারি ২০২৬” উল্লেখ করা। ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফটো কার্ডটি ৬৩৮ বার শেয়ার করা হয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া পড়েছে ২ হাজার ৬০০ বারের বেশি।
একই দাবিতে ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও গত ৩১ ডিসেম্বর ড. কামাল হোসেনের ছবি সংযুক্ত একটি ফটো কার্ড পোস্ট করা হয়। এই ফটো কার্ডের ভেতরেও লেখা, “তারেক রহমানকে প্রতারক আখ্যা দিলেন ড. কামাল হোসেন।” এর নিচে লেখা, “সূত্রঃ বার্তা বাজার।” পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা, “বিএনপি নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে! তাই তারেক রহমানকে প্রতারক আখ্যা দিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ, গণ ফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।”এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফটোকার্ডটি ৪ হাজার বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া পড়েছে ৫ হাজার ১০০ বারের বেশি।
বার্তা বাজারের সূত্রের সত্যতা যাচাই করতে বার্তা বাজারের ওয়েবসাইট এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ৩১ ডিসেম্বরের পোস্টগুলো যাচাই করে ডিসমিসল্যাব। ড. কামাল হোসেনকে জড়িয়ে কোনো সংবাদ বার্তা বাজারে পাওয়া যায়নি।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ড. কামাল হোসেনের ছবি সংযুক্ত একটি ফটো কার্ড পোস্ট করা হয়। ফটো কার্ডের ভেতরে লেখা, “জামায়াতকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে।” এর নিচে লেখা, “দেশের মানুষ জামায়াতের জন্য অপেক্ষা করছে এটা বুঝতে দেরি করা ঠিক হবে না।” পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা, “দেশের জনগণ জামায়াতকেই নিরাপদ মনে করছে, আপনি বিরোধিতা করে কি করতে পারবেন ? দেশে অশান্তি করে কি হবে আপনার আপনি যেখানে ছিলেন সেখানে ও আর যেতে পারবেন না । দেশে থাকতে হবে সেই চিন্তা করেন ১৭ বছর ছিলেন না এখন থাকার চেষ্টা করেন মিলে মিশে । তা না হলে প্লেন ও পাবেন না।” ফেসবুকের একাধিক পেজ,গ্রুপ এবং প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ফটো কার্ডটি পোস্ট করা হয়।
ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে, প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিয়েও কোনো গণমাধ্যমে জামায়াত ও তারেক রহমানকে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
বক্তব্য দুটির সত্যতা যাচাই করতে গণফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ডিসমিসল্যাবকে জানান, ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।
অর্থাৎ, ড. কামাল হোসেন জামায়াতে ইসলামী ও তারেক রহমানকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
