ঢাকা রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯শে মাঘ ১৪৩২


ক্ষমতায় গেলে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে দেশকে নিরাপদ করা হবে: জামায়াত আমির


৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩:০৩

সংগৃহীত

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের জন্য দেশকে নিরাপদ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সবাই উপাসনালয়ে যার যার উপাসনা করবে। এই কাজে বাধা দেওয়ার অধিকার কারোর নেই। 

 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সভায় এমনটা জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, কেউ কেউ আছেন তরুণ প্রজন্মকে স্বীকার করতে চান না। তাদেরকে বাচ্চা-কাচ্চা, নাতি-পুতি বলেন। আমি বিস্মিত এবং লজ্জিত। যাদের ত্যাগের কারণে দেশে নির্বাচনের কথা বলা সম্ভব হচ্ছে, যাদের কারণে দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখছেন তারা আজ তাদের অস্বীকার করছেন। বিষয়টিকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

জামায়াত আমির জানান, দেশবাসী রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত দেখেছে। ৫৪ বছর দেখেছে। সেই বন্দোবস্ত ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে, দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। এই রাজনীতি আর ফিরিয়ে না আনার আহ্বান জানান তিনি। 

 

পরিবর্তনের জন্য 'হ্যাঁ' ভোট দিতে হবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণের আস্থা যদি আমাদের ওপর আসে আমরা সেই আস্থার প্রতিদান দেবো। প্রতিহিংসা করবো না, প্রতিশোধ নেবো না। প্রতিহিংসার জন্য রাজনীতি করি না। আমরা দুর্নীতিকে ঘৃণা করি। মামলাবাজি করবো না, চাঁদাবাজি করবো না। মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করার দিন শেষ। জামায়াত পেছনের দিকে তাকাতে চায় না। সামনে তাকিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মানের সাথে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

 

নারীদের ওপর হামলা নিয়ে তিনি বলেন, মায়েদের গায়ে হাত দেওয়া এই জাতি মেনে নেয়নি। লাঠিয়াল বাহিনীকে যুবক-যুবতীরা ব্যর্থ করে দিয়েছে। মা-বোনেরা তাদের নিরাপত্তার জন্য পরিবর্তন চায়। আমরা কথা দিচ্ছি, সুযোগ পেলে মায়েদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা দুটিই আমরা নিশ্চিত করবো। মায়েরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা অমুসলিম ভাইদের বুকে নিয়ে সম্মানের সাথে চলবো। কাউকে আমরা ফেলে দেবো না। সকল ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন তাদের জন্য নিরাপদ করা হবে। যার যার উপাসনা উপাসনালয়ে করবে, বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। অতীতে যারা তাদের ওপর জুলুম করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে।

 

লক্ষ্মীপুরে অনেক সমস্যা আছে জানিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, মেঘনা নদীর বাঁধ নির্মাণ সম্পর্কে বাজেটের টাকা পেটের ভেতর চলে যায়, নদীর পাড়ে যায় না। আমরা কথা দিচ্ছি, দায়িত্ব পেলে চুরির রাস্তা বন্ধ করে সেই টাকা দিয়ে উন্নয়ন করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।