ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই ২০২৪, ২রা শ্রাবণ ১৪৩১


রাসেলস ভাইপারের প্রতিষেধক তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রামে!


২৬ জুন ২০২৪ ২১:৫৫

ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর নিয়মিত শিরোনাম হচ্ছে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। এই সাপের কামড়ে কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মৃত্য যেন নিত্যদিনের। ফলে এনিয়ে চলছে নানান গবেষণা। এবার জানা গেল— রাসেলস ভাইপার সাপের প্রতিষেধক তৈরির কাজ করছে চট্টগ্রামের ভেনম রিসার্চ সেন্টার। যদিও এই কাজটি শুরু হয়েছিল বছর দেড়েক আগে। তবে এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হিসেবে বলা হয়েছে— প্রথম ধাপে মুরগি ও ছাগলের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে এই প্রতিষেধক। 

গবেষকরা জানিয়েছেন— রাসেলস ভাইপার অনেকটা নিরীহ ও অলস প্রকৃতির সাপ। বিপদ না দেখলে নিজ থেকে তেড়ে এসে কামড়ায় না সাপটি। তবে সামাজিকমাধ্যমে গুজবের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা।

জানা যায়, বিষের তীব্রতার দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ এটি। কিন্তু দেশে এই সাপের বিষের শতভাগ কার্যকরী কোনো প্রতিষেধক নেই। প্রতিবেশী ভারতে থাকলেও সেটি পুরোপুরিভাবে কাজ করছে না। কেননা বাংলাদেশের বিষধর সাপের বিষ আর ভারতীয় সাপের বিষ আলাদা। 

ভেনম রিসার্চ সেন্টারে রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজ করছেন একদল গবেষক। এক বছর আগে শুরু হওয়া গবেষণায় এরইমধ্যে মুরগি ও ছাগলের ওপর চালানো হয়েছে পরীক্ষা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে এর পরীক্ষা চালানো হবে ইঁদুরের ওপরে। গবেষকরা বলছেন— এই পরীক্ষা সফল হলে যুগান্তকারী অগ্রগতি সাধিত হবে। 

ডা. আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদ ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সমন্বয়ক। তিনি বলেন, ‘রাসেলস ভাইপারের বিপরীতে আমরা একটি এন্টিবডি তৈরি করতে যাচ্ছি। মুরগি ও ছাগলের ওপরে ইতোমধ্যে পরীক্ষা করেছি। চলতি বছরের শেষ দিকে ইঁদুরের ওপরে পরীক্ষা চালানো হবে। আশাকরছি— এ বছরের শেষ পর্যন্ত আমরা গবেষণার কাজ শেষ করতে পারব। 

আব্দুল আওয়াল একই রিসার্চ সেন্টারের সহকারী গবেষক। তিনি বলেন, ‘আতঙ্ক তৈরি হয় মানুষের মনের ভয় থেকে। অন্ধকার ঘরে সাপ মানে সব জায়গায় সাপ। বাংলাদেশে এখন মনে হচ্ছে সাপ মানে শুধুই রাসেলস ভাইপার। এন্টিভেনমের ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন নয়। বাংলাদেশের এন্টিভেনম, ভারতের এন্টিভেনম। আমাদের এখান থেকে ২ হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতে এন্টিভেনম তৈরি হচ্ছে। যতই ভৌগোলিকভাবে আমরা দূরে যাচ্ছি, এন্টিভেনমের সক্ষমতা কমে যায়। যখন আমরা বাংলাদেশের সাপের ওপরে বাংলাদেশের তৈরি এন্টিভেনম ব্যবহার করতে পারব, তখন এর কার্যক্ষমতা থাকবে শতভাগ।’

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত দেশের ২৭টি জেলায় রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।