ঢাকা শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৭


অনিয়ম দূর্নীতি,অর্থ আত্মসাতসহ মামলার বেড়াজালে মগবাজার হাইস্কুল


৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:০২

আপডেট:
৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:২৮

প্রতিকি

মগবাজার হাইস্কুলে অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে শিক্ষাঙ্গণের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে । মামলায় জড়িয়ে পড়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ।

মামলার সূত্র অনুযায়ী জানা যায়,দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত মগবাজার গার্লস হাইস্কুল।
হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান কে বরখাস্তের পর সহকারী প্রধান শিক্ষক খুরশিদা খানম কে স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

খুরশিদা খানম দায়িত্বপালন করা কালীন বিগত ২৬/০৪/২০১৮ইং তারিখ পূর্ব নির্ধারিত ম্যানেজিং কমিটির সভায় পারিবারিক কারন দেখিয়ে হঠাৎ স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।ফলে ম্যানেজিং কমিটি খুরশিদা খানমের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক সেলিনা হোসেনকে প্রধান শিক্ষকের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব অর্পণ করে।

সেলিনা হোসেন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা এর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর প্রীতিশ কুমার সরকার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ০১/০৮/২০২০ ইং তারিখের পত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২/০৬/২০১৮ ইং জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০১৮ উল্লেখ করে খুরশিদা খানমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। উল্লিখিত আইনে বিদ্যালয় পরিদর্শক কর্তৃক উপরিউক্ত নির্দেশ প্রদান করার তার এখতিয়ারের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

প্রীতিশ কুমারের ক্ষমতা বহির্ভূত পত্রের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিনা হোসেন জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।মামলা মোকাদ্দমা চলাকালীন সময়ে মাননীয় আদালত এ ঘটনার বিষয়ে স্হিতাদেশ প্রদান করেন।মাননীয় আদালতের স্হিতাদেশ অবহিত হওয়ার পর খুরশিদা খানম তার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিনা হোসেনকে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করা সহ মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।

খুরশিদা খানম‌ অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সেলিনা হোসেনকে চাকরিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবৈধ ও বেআইনি ভাবে এডহক কমিটির মিটিং আহ্বান করে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ম্যানেজিং কমিটি প্রণিধানমালা-২০০৯ অমান্য করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে এস‌ এম সাইফুজ্জামান বাদশা এর নাম প্রস্তাব করে তা অনুমোদন করিয়ে নেন।

এস এম সাইফুজ্জামান বাদশা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হ‌ওয়ার পর করোনা পরিস্থিতির কারণে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও খুরশিদা খানমের যোগসাজশে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে খালেদ কে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ০৬/০৬/২০১১ইং তারিখের‌ পরিপত্র কে অমান্য করে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

ইতিমধ্যে এসএম সাইফুজ্জামান বাদশা ম্যানেজিং কমিটি এবং খুরশিদা খানম প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দুজনের স্বাক্ষরে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড হতে ১০,৪৬,৭৯৪/-(দশ লক্ষ ছিচল্লিশ হাজার সাতশত চুরানব্বই) টাকা কোন প্রকার রেজুলেশন ছাড়াই দুইবারে,দুটি চেকের মাধ্যমে নিজ নামে উত্তোলণ করেন।এবং যমুনা ব্যাংক লিমিটেড হতে ৮৯,৯৮,৫০০/-(উননব্বই লক্ষ সাতানব্বই হাজার পাঁচশত) টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়াও খুরশিদা খানমের চাকুরির মেয়াদ ১৪/০৪/২০২০ ইং তারিখে উত্তীর্ণের পর‌ও তা আমলে না নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এসএম সাইফুজ্জামান বাদশা ও খুরশিদা খানম বিগত ২০/০৫/২০২০ইং তারিখে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড মিরপুর শাখায় এক পত্রের মাধ্যমে মগবাজার গার্লস হাই স্কুলের এবং,ঠিক,আর এর ৬বৎসর মেয়াদী দ্বিগুণ প্রকল্পের (১,০০,০০,০০০x২)=২০০,০০,০০০/-(দুই কোটি) টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্য উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড,(মহিলা শাখা),নিউ বেইলী রোড শাখায় স্হানান্তরের আবেদন করেছে যা সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতার অপব্যবহার‌ ও আইনি আদেশ অমান্য করে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এমতাবস্থায় স্কুলটির সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে কমিটির অব্যবস্হাপনা সহ সকল বিষয় জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিয়ে দেখা নিতান্তই জরুরী বলে মনে করে সুশীল সমাজ।